image

"ঢাবি কোরাম" ও গণ-অভ্যুত্থানের প্রাপ্তি নিয়ে রাকসু জিএসের বিস্ফোরক মন্তব্য

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং এর পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ছাত্র রাজনীতির অন্দরমহলে এক নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস অঙ্গন।

নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি মন্তব্য করেছেন, সেখানে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরাই সরকার গঠন করতে পেরেছে কারণ তাদের রাজনীতিতে "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কোরাম" কিংবা কোনো বিশেষ প্রভাবশালী বলয়ের প্রভাব ছিল না। তাঁর এই বক্তব্য মূলত অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবমূল্যায়ন এবং বিশেষ একটি গোষ্ঠীর আধিপত্যের প্রতি এক সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

​সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর বক্তব্যে গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, জুলাই বিপ্লবের পর কে কাকে আশ্রয় দিয়েছে কিংবা কে কার "মাস্টারমাইন্ড" এ সব তাত্ত্বিক লড়াইয়ে প্রকৃত মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারীরা উপেক্ষিত হয়েছেন। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পোষ্য কোটা বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুভমেন্ট চলছিল, তখন জাতীয় পর্যায়ের নেতারা কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক রাজনৈতিক মেরুকরণেই মগ্ন ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লব নিয়ে ঢাকায় কোটি কোটি টাকার সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম ও আয়োজন হলেও ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রস্তাব ও দাবিগুলো দিনের পর দিন উপেক্ষিত থেকেছে।

​নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাকসু জিএস আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে "ঢাবিয়ান" পরিচয়। অভ্যুত্থানের নেতাদের সাথে দেখা করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যখন মূল্যায়ন মেলেনি, তখন তিনি উপলব্ধি করেছেন যে হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না পারাটাই ছিল তাঁর একমাত্র বিচ্যুতি।

নেপালের নতুন "জেন-জি" সরকারকে শুভকামনা জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষকে ফ্যান-ফলোয়ার দিয়ে মূল্যায়ন করার পরিবর্তে যদি সত্যিকারের ত্যাগের মূল্যায়ন না হয়, তবে আন্দোলনের মূল অর্জন ফিকে হয়ে যেতে পারে।

তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি আজ সাতই মার্চের ঐতিহাসিক প্রহরে ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ ও সমবণ্টন নিয়ে এক গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

‘শিক্ষা’ : আরও খবর

সম্প্রতি