ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তির জন্য নিঃশর্ত আত্মসমর্পণকে পূর্বশর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর সপ্তম দিনে গত শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্পের মতে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে হলে আগে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমান শাসনের পতনের পর নতুন এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের অধীনে ইরান পুনর্গঠনে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ট্রাম্প লিখেন, ইরান যখন আত্মসমর্পণ করবে এবং চমৎকার ও গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচিত হবেন, তখন আমরা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়েও শক্তিশালী করে তুলব।
ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরান আলোচনার জন্য যোগাযোগ করছে, কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা কোনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার অনুরোধ করছেন না। তাঁর মতে, আগের আলোচনার মাঝপথে হামলার কারণে নতুন করে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে, যদিও তিনি দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি। বিবিসির ওয়াশিংটন করেসপনডেন্ট ড্যানিয়েল বুশ মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর সব পথ বন্ধ করে দিতে পারে।
ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পূর্ণ পরিবর্তন বা আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাত থামার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের শাসকগোষ্ঠী নতি স্বীকার করার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।