মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে মুখোমুখি অবস্থানে আনছে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা চার দিনের সংঘাতে শুধু তেহরান-তেলআবিব-ওয়াশিংটন নয়- বিশ্ব রাজনীতির বড় শক্তিগুলোর অবস্থানও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর দাবি ঘিরে উত্তেজনা চরমে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন একটাই- বিশ্বনেতারা কে কার পক্ষে?
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল: একসঙ্গে আক্রমণাত্মক অবস্থান
ওয়াশিংটন ও তেলআবিব প্রকাশ্যেই সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যৌথ অভিযানে খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট- ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করা।
রাশিয়া–চীন: তীব্র নিন্দা, কূটনৈতিক বার্তা
চীন ও রাশিয়া সরাসরি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।বেইজিং বলছে, এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।মস্কো খামেনির হত্যাকে “নিষ্ঠুর” বলে অভিহিত করেছে এবং সতর্ক করেছে- এই উত্তেজনা ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দুই পরাশক্তির বার্তা স্পষ্ট- ওয়াশিংটন-তেলআবিবের সামরিক পদক্ষেপ তারা সমর্থন করছে না। যদিও এখনো সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি।
যুক্তরাজ্য: সরাসরি নয়, কিন্তু আড়ালে সমর্থন?
লন্ডন বলছে, তারা হামলায় জড়িত নয়। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার স্পষ্ট করেছেন- যুক্তরাজ্য সরাসরি অভিযানে অংশ নেবে না। তবে একইসঙ্গে তিনি মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন- ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের জন্য। অর্থাৎ, সরাসরি যুদ্ধ নয়, কিন্তু কৌশলগত সহযোগিতা- এমন অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য।
জার্মানি: শর্তসাপেক্ষ অংশগ্রহণ?
বার্লিন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে। জার্মান সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে- যদি ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোতে হামলা বাড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ, জার্মানি এখন পর্যবেক্ষক- কিন্তু দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়।
ফ্রান্স: কঠোর ভাষা, কৌশলী অবস্থান
ফ্রান্সের সরকারি মুখপাত্র খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানালেও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ সতর্ক করেছেন- উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হবে। প্যারিসের অবস্থান দ্বিমুখী- নৈতিক সমর্থন আছে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যরা: শান্তির আহ্বান
ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক বলেছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জাতিসংঘ- সবাই সংযমের ডাক দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব ও মানবাধিকার প্রধান সতর্ক করেছেন- এই সংঘাত থামানো না গেলে বিশ্বশান্তি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
তাহলে বিশ্ব মানচিত্রে অবস্থানটা কী? সংক্ষেপে শক্তির হিসাব দাঁড়াচ্ছে- ইরানের বিপক্ষে সক্রিয়ভাবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কঠোর ভাষায় সমর্থন বা শর্তসাপেক্ষ সহযোগিতায় থাকছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সম্ভাব্যভাবে রয়েছে জার্মানি। তীব্র নিন্দা আর কূটনৈতিকভাবে ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে
রাশিয়া ও চীন। সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে ইইউ, জাতিসংঘ, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া।
সামনে কী হতে যাচ্ছে? এই যুদ্ধ কি সীমিত সামরিক অভিযানেই আটকে থাকবে, নাকি রূপ নেবে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংঘাতে? রাশিয়া-চীনের নিন্দা কি কূটনৈতিক বার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তারা আরও দৃশ্যমান ভূমিকা নেবে? ইউরোপ কি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে সরাসরি দাঁড়াবে?
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ছে- কিন্তু কূটনৈতিক আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে আরও বড় প্রশ্ন:
এ কি আর শুধু ইরানের যুদ্ধ, নাকি বিশ্ব শক্তিগুলোর নতুন শক্তিপরীক্ষা? এই প্রেক্ষাপটেই তৈরি হচ্ছে নতুন বৈশ্বিক সমীকরণ- যেখান থেকে যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র।
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের দামে বড় পতন
জাতীয়: বায়ু দূষণে শীর্ষে ঢাকা
আন্তর্জাতিক: দুবাইয়ে মার্কিন দূতাবাসে এবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আন্তর্জাতিক: নতুন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরান
আন্তর্জাতিক: ইরানে হামলা, বিশ্বনেতারা কে কার পক্ষে