দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছে উভয় পক্ষ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে একটি ‘ভালো শুরু’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ বললেও সামরিক হামলার হুমকি বজায় রেখেছেন।
‘ভালো শুরু’ বনাম ‘অবিশ্বাসের দেয়াল’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাস্কাটে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদির মধ্যস্থতায় এই পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইরানি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “এই পরোক্ষ আলোচনা একটি ভালো শুরু। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেব।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দূর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্পের ‘ভালো আলোচনা’ ও কড়া হুঁশিয়ারি
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ইরান নিয়ে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ইরান নিয়ে আমেরিকার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে আমরা আবারও আলোচনায় বসছি।”
তবে সুর নরম করলেও হুমকি দিতে ছাড়েননি ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওমানের এই আলোচনা এখনও মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর করার মতো কোনো ‘রোডম্যাপ’ দিতে পারেনি। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “যদি ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সম্মানজনক চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।”
আলোচনার নেপথ্যে যারা
মাস্কাটের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরোক্ষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের উপস্থিতি, যা এই আলোচনার সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্বকে ফুটিয়ে তুলেছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি দুই পক্ষের মধ্যে দূতিয়ালি করেন। তিনি শুক্রবার দিনভর উভয় দলের সাথে আলাদাভাবে একাধিকবার বৈঠক করেন এবং একে অপরের দাবি ও বার্তা পৌঁছে দেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইরান কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রভাবের বিষয়টিও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করতে। এই মতপার্থক্য সত্ত্বেও আগামী সপ্তাহের শুরুতে পরবর্তী দফার আলোচনার ঘোষণা এই অঞ্চলের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনছে।
সূত্র: আল জাজিরা
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতা চলমান: একদিন পরই আবারও বাড়ন্ত
আন্তর্জাতিক: ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক আলোচনা
আন্তর্জাতিক: ভারতীয় পণ্যে ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহার