ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য বৈঠক করেছে দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে হওয়া আলোচনা সম্পর্কে জানেন এমন কয়েকটি সূত্রমতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি।
তবে যুক্তরাজ্য থেকে পরিচালিত ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরান ইন্টারন্যাশনাল একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।যে সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চাপ ছিল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাদের পর্ষদের আলোচনা সম্পর্কে জানেন এমন দাবি করা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে ও সন্ধ্যায় অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের দুটো ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ধর্মীয় নেতারা স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) সকালের মধ্যেই মোজতবা খামেনিকে তার বাবার উত্তরসূরি ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছৈন, এটি মোজতবাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিশানায় পরিণত করতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান ও শিয়া মুসলিম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভালি নাসর মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরেই মোজতবাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে ঠিক করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত দুই বছর ধরে মনে হয়েছে, তার ওপর থেকে নজর সরে গেছে। যদি তিনি নির্বাচিত হন; তবে তা এই ইঙ্গিত দেবে যে এটা অধিক কট্টরপন্থী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে এসেছে, এই বাহিনী এখন দায়িত্ব আছে।’
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই মোজতাবা খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার গুঞ্জন চলছিল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হলে তা হবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার জন্য পরিচিত। বিপ্লবী গার্ড তার নিয়োগের পক্ষে জোর দিয়েছে। তারা এই যুক্তি দেখিয়েছেন, সংকটের এই সময়ে ইরানকে পরিচালনা করার জন্য তার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে।
প্রতিবেদনে তেহরানের বিশ্লেষক মেহদি রহমাতির মন্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেছেন, ‘এখনকার সময়ে মোজতবা সবচেয়ে বিচক্ষণ নির্বাচন। কারণ, তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থাগুলো পরিচালনা ও সমন্বয় করার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত। তিনি আগে থেকেই এই দায়িত্বে ছিলেন।’তবে মোজতবাকে নির্বাচন করা হলে সবাই খুশি হবেন না বলেও মন্তব্য করেন মেহদি।
প্রতিবেদন মতে, সরকারের বিরোধিরাও মোজতবাকে একই রকমভাবে বর্তমান শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখবেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আলেম ও আইনজ্ঞ আলিরেজা আরাফি ও ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি সৈয়দ হাসান খোমেনি।
প্রসঙ্গত, ইরানের ‘অ্যাসম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পর্ষদে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতা রয়েছেন। তারা জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এই পর্ষদ সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ, তদারকি ও অপসারণের দায়িত্বে থাকে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবার সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক: আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে ঢাকার স্পষ্ট অবস্থান চায় ইরান
সারাদেশ: রমজানে কলার চাহিদা ও দাম বেড়েছে