image

দুবাইয়ে মার্কিন দূতাবাসে এবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

রিয়াদে সিআইএ স্টেশন ধ্বংসের পর ফুজাইরায় জাহাজ ও দুবাইয়ে দূতাবাসে হামলা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের পর পঞ্চম দিনে গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে অগ্নিকুণ্ড

মধ্যপ্রাচ্য এখন যুদ্ধের অগ্নিগর্ভে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পঞ্চম দিনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলে। তেহরান একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে।

সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা আঞ্চলিক যুদ্ধকে আরও প্রকট আকার দিয়েছে।

এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে সিআইএর একটি গোয়েন্দা স্টেশন ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া ফুজাইরা উপকূলে জাহাজে হামলা, লেবাননে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে তেহরানের জবাব দেওয়ার সামর্থ্য স্পষ্ট হয়েছে। পাঁচ দিনের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয় মার্কিন সেনা ও নয় ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইরানের বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।

মার্চ ৪: দুবাইয়ে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

গত ৩ মার্চ রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, দূতাবাসের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে জরুরি সেবা দল। দুবাই মিডিয়া অফিসের বরাতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মার্চ ৩: ফুজাইরায় জাহাজে হামলা, রিয়াদে সিআইএ স্টেশন ধ্বংস

৩ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ইস্পাতের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করলেও হামলার উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।

একই দিনে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় দূতাবাসের ভেতরে থাকা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র একটি স্টেশন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় দূতাবাসের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।

মার্চ ২: সৌদি আকাশসীমায় ড্রোন ধ্বংস, লেবাননে হামলা

শনিবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা নয়টি ড্রোনকে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এই ড্রোনগুলো কোন দেশ থেকে ছোঁড়া হয়েছিল তাৎক্ষণিকভাবে জানানো না হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ঘাঁটির দিকে পাঠিয়েছিল।

একই দিনে লেবাননের মাউন্ট লেবানন এলাকার আরামউন ও সাদিয়াত অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হয়। অন্যদিকে বালবেক শহরের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

মার্চ ১: ইসরায়েলের নতুন নির্দেশ, লেবাননে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ১৬টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। মাজদাল সেলম, হুলা এবং শাকরাসহ এসব এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৫০ ও আহতের সংখ্যা ৩৩৫ জনে পৌঁছেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৮: ইরানে ব্যাপক হামলা, হাজারো বেসামরিক নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে ইরানে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, তারা প্রায় ২,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১,০৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮১ জন ১০ বছরের কম বয়সী শিশু। আহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ৫,৪০২ জন।

ফেব্রুয়ারি ২৭: তেহরানে হামলা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। হামলার পরপরই তেহরান পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় এবং পাঁচ দিন ধরে সেই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংকট কেবল বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি স্বার্থের সরাসরি সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই অগ্নিকুণ্ড আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের দামে বড় পতন