image

কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলা : নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আফগানিস্তান ছাড়ার শেষ সময়ে এসে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয় একই পরিবারের ১০ সদস্য। রাজধানী কাবুলে চালানো ওই হামলাকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এতে সন্তুষ্ট নন নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়রা। তাঁরা এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আফগানিস্তানে এসে ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন। গতকাল শনিবার তাঁরা এমন দাবি করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্য সন্দেহে কাবুলে একটি গাড়িতে ওই ড্রোন হামলা চালান মার্কিন গোয়েন্দারা। এতে গাড়িটিতে থাকা এজমারাই আহমাদিসহ তিন প্রাপ্তবয়স্ক ও সাত শিশু নিহত হয়। এর আগে ২৬ আগস্ট রাজধানীর হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের বাইরে আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ মার্কিন সেনাসহ ১৭০ আফগান নিহত হয়।

সেদিনের ড্রোন হামলার পর এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন ফারশাদ হায়দারি (২২)। ড্রোন হামলায় নিহত এজমারাই আহমাদি সম্পর্কে তাঁর চাচা। কাবুলে নিজ বাসা থেকে হায়দারি বলেন, হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। মার্কিনদের আফগানিস্তানে আসতে হবে এবং সামনাসামনি ক্ষমা চাইতে হবে। এ ছাড়া তাদের অবশ্যই এ ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে হায়দারির ভাই নাসেরও ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের কেউ যে সন্ত্রাসী ছিল না, এটা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরিষ্কার। সারা বিশ্বের মানুষও এখন এটা জানবে। এ সময় তিনি হামলার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের আটক করে শাস্তির দাবি করেন।

মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন হায়দারি। তাঁর ভাই নাসের যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ১০ বছরের মতো সময় কাজ করেছেন। চাচা আহমাদিও মৃত্যুর সময় একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছিলেন। তালেবান কাবুল দখলের পর তাঁদের সবার কাছে আফগানিস্তান ত্যাগের ছাড়পত্র ছিল। তাঁরা খুব শিগগির যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দেওয়ার আশায় ছিলেন বলে জানান হায়দারি।

হামলায় নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে এএফপি কথা বলেছে আহমাদির ভাই আইমালের সঙ্গে। সেদিন গাড়িতে অন্যদের সঙ্গে ছিল তাঁর তিন বছরের মেয়ে মালেকাও। ড্র্রোন হামলা তার প্রাণও কেড়ে নেয়। আইমাল বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে বিচার চাই...এরপর আমরা এর ক্ষতিপূরণ চাই।’

এদিকে ড্রোন হামলাটিকে ভুল বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও। তিনি বলেন, নিহত আহমাদির সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে কোনো সংযোগ ছিল না। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’