প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলার দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং প্রস্তুতির যবনিকাপাত ঘটতে যাচ্ছে আফঈদা, ঋতুপর্ণাদের। আগামীকাল মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট এএফসি নারী এশিয়ান কাপের খেলা শুরু হচ্ছে। তবে লাল সবুজের মেয়েদের অভিষেক হবে আগামী মঙ্গলবার। প্রথম দিনেই আফঈদা খন্দকারদের প্রতিপক্ষ নয়বারের চ্যাম্পিয়ণ চীন।
এই টুর্নামেন্টে খেলতে অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সিডনি গিয়েছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা। সিডনির ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে শুরুর দিনগুলোতে অনুশীলনের পরে টাইগ্রেসরা শুক্রবার, (২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্প ছেড়ে প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী এএফসি নির্ধারিত টিম হোটেল ‘পার্ক রয়্যাল’-এ স্থানান্তরিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর তিন দিন আগে অংশগ্রহণকারী সব দেশকে অফিসিয়াল হোটেলে উঠতে হয় এবং তাদের অনুশীলনের সময়সূচী এএফসি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। হোটেলে চেক-ইন করার আগে পিটার বাটলারের শিষ্যরা জুবিলি ওভারে ৯০ মিনিটের একটি সেশন সম্পন্ন করে, যা এই টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল প্র্যাকটিস ভেন্যু। সকালে অনুশীলন সেশন শেষে সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অনন্যা দলের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘একদিন বিশ্রাম নেয়ার পর শুক্রবার আমরা প্রথমবারের মতো এএফসি নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুশীলন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, সবাই ভালো পারফর্ম করেছে।’ খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘দলে বড় কোনো চোট নেই। আমাদের সঙ্গে ফিজিও আছেন এবং ছোটখাটো সমস্যাগুলো ভালোভাবে সামলানো হচ্ছে। সবাই সুস্থ রয়েছে এবং প্রতিটি সেশনে নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছে।’
এদিকে বাংলাদেশ কঠিন ‘গ্রুপ বি’-তে পড়েছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, তিনবারের বিজয়ী উত্তর কোরিয়া এবং শক্তিশালী উজবেকিস্তান। চীনের অস্ট্রেলীয় কোচ এন্তে মিলিচিচ ইতিমধ্যেই সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে এবিসি নিউজকে বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন হবে। বর্তমানে সব দলই আগের চেয়ে বেশি ফিট এবং সুসংগঠিত। আপনাদের প্রথম প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে সম্মান করতে হবে। যদিও এটিই তাদের প্রথম এশিয়ান কাপ।’ মঙ্গলবার সিডনিতে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ তাদের অভিযান শুরু করবে। এটি বাটলারের দলের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ঠিকই, তবে এই বিশাল মঞ্চে পা রাখাটাই বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন।
বাংলাদেশকে হালকাভাবে
নেবে না চীন
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠেত এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। তবে শক্তির পার্থক্য সত্ত্বেও বাংলাদেশকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না চীনা শিবির।
দলটির অস্ট্রেলিয়ান কোচ আন্তে মিলিচিচ মনে করেন, গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারে উত্তর কোরিয়া, কিন্তু বাংলাদেশকেও যথেষ্ট সম্মান দিচ্ছেন তিনি। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তান এবং বাংলাদেশ এই চার দল নিয়ে গঠিত হয়েছে কঠিন একটি গ্রুপ।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে মিলিচিচ বলেন, ‘এখন প্রতিটি দলই আগের চেয়ে অনেক বেশি ফিট এবং সংগঠিত। প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।
প্রথম ম্যাচে আমাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ, তাদের অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কারণ এটি তাদের প্রথম এশিয়ান কাপ।’
অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া এই কোচ ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার নারী দল ‘ম্যাটিল্ডাস’-কে শেষ ষোলোতে তুলেছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি চীনের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তার দৃষ্টিতে, উত্তর কোরিয়া নিঃসন্দেহে ভয়ংকর প্রতিদ্বন্দ্বী; তবে চীন এক ম্যাচ করে এগোতেই মনোযোগী।
বাংলাদেশের জন্য আগামী ৩ মার্চের ম্যাচটি শুধু একটি খেলা নয়, বরং ইতিহাসের সূচনা। চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই এশিয়ার সর্বোচ্চ নারী ফুটবল আসরে পথচলা শুরু হবে তাদের। কিন্তু প্রস্তুতি আদর্শ ছিল না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ না পেলেও সিডনিতে গিয়ে ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার দলের অনুশীলনে জোর দেন। সেখানে চারটি অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করে গত বুধবার স্থানীয় ক্লাব ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স নারী দলর বিপক্ষে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ।
সে ম্যাচের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও জানা গেছে, ২৬ সদস্যের পুরো স্কোয়াডকে খেলানোর সুযোগ দিয়ে ম্যাচটি ১১ গোলে ড্র হয়েছে। ফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস ও সমন্বয় বাড়ানোই ছিল কোচের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে চীনও সাম্প্রতিক সময়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার পর দলটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
অর্থ-বাণিজ্য: বিদেশি ঋণ পাওয়ার চেয়ে পরিশোধই বেশি
আন্তর্জাতিক: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে কী বলছে ভারত