চলতি বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ নভেম্বর মাস পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এবার অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম দীর্ঘায়িত হবে। নভেম্বরেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া থেমে থেমে বৃষ্টি আর এরপর টানা রোদে সবচেয়ে বেশি জন্মায় এডিস মশা। এমন পরিস্থিতি এডিস মশার বংশ বিস্তারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদেরা। ডেঙ্গু এখন আর বর্ষাকালেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। গত ২ থেকে ৩ বছর ধরে এর প্রকোপ দীর্ঘ হচ্ছে। এবারও বছরের শুরু থেকেই ছিল ডেঙ্গু রোগী। আগস্টে শনাক্ত ও প্রাণহানি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুন-জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হলেও আগস্টে প্রায় ৩৬ ভাগ বেশি হয়েছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুম শেষ হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি, এবার কিছুটা দেরির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, সাধারণত আমাদের দেশের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা বিদায় নেয়। এই সময় পর্যন্ত দেশে বৃষ্টির প্রবণতা থাকে। এবছর বর্ষা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। থেমে থেমে বৃষ্টি আর এরপর টানা রোদে সবচেয়ে বেশি জন্মায় এডিস মশা। সেই হিসেবে এবার নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকার শঙ্কা কীটতত্ত্ববিদদের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, থেমে থেমে যখন বৃষ্টি হয় তখন বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। সেখান থেকে এডিস মশার জন্ম নিতে থাকে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা শেষ হলে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকতে পারে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারের কাছাকাছি। আর মারা গেছে ৮০০ জনের বেশি।
এদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর একদিনে সর্বোচ্চ ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ৮৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ১৫ জন। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩ হাজার ১৫ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৮৫৭ জন। ঢাকার বাইরে ২১৫৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১০ জন এবং ঢাকার বাইরের ১১ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮১০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৭৫ হাজার ৮৩৩ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৭৭ জন।
এছাড়া এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৭১ হাজার ৪২৬ জন এবং ঢাকার বাইরের ৯৪ হাজার ২৫৪ জন। এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন। ২০২০ সালে করোনা মহামারীকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
২০ লাখ ব্যাগ স্যালাইন কেনার সিদ্ধান্ত
সরকারি হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২০ লাখ ব্যাগ আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এর অনুমোদন দেয়। জরুরি প্রয়োজনে কেনা স্যালাইনের মধ্যে থাকবে ১২ লাখ ব্যাগ ১ হাজার এমএলের স্যালাইন এবং ৮ লাখ গ্লুকোজ। এছাড়া টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদনও দিয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা।
এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সভায় সভাপতিত্ব করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভা শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইদ মাহবুব খান জানান, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনা প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৬০ টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া টিসিবির জন্য আরও ৬৫ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনা হবে। খরচ হবে ১০৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রতি লিটারে দাম পড়বে ১৫৯ টাকা।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। অন্যান্য বছর ডেঙ্গু অনেকটাই ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। কিন্তু এবার পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এরইমধ্যে স্যালাইনের এক ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে ২০ লাখ আইভি ফ্লুইড সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. সাইদুর রহমান বলেন, স্যালাইন ওই ভাবে সংকট নেই।
খেলা: বয়কটে মাঠে নামেনি দল
অর্থ-বাণিজ্য: চরম গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা বেড়েছে
অর্থ-বাণিজ্য: বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর, তৈয়ব ও ইসি সচিব