ট্রেনে একের পর এক নাশকতা ও নাশকতার চেষ্টার জেরে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। নাশকতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধও করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে ট্রেনগুলো হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখার খবর না জানায় অনেকে ট্রেশনে এসে ভোগান্তিতেও পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রুটের ‘রাত্রিকালীন ঝুঁকিপূণর্’ পাঁচ জোড়া ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার জোনাল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত এক আদেশে রাজশাহী-পার্বতীপুর রুটে ‘উত্তরা এক্সপ্রেস’ চলাচল স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘হরতাল, অবরোধ ও নাশকতা এড়াতে উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল বন্ধ থাকবে।’
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটের এক জোড়া কমিউটার ট্রেন বন্ধ রাখা হয়। ঈশ্বরদী-রাজশাহী-রোহনপুর রুটের ১ জোড়া ট্রেন ১৫ ডিসেম্বর থেকে এবং একই দিন থেকে ময়মনসিংহ থেকে ভূয়াপুর চলাচলকারী লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে। এছাড়া জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ি একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ট্রেনগুলো চলাচল স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ঢাকা) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাশকতার আশঙ্কায় এসব ট্রেনের চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।’ তবে কবে নাগাত এই ট্রেনগুলো আবার চালু হবে তা জানাতে পারেননি তিনি।
গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর তেজঁগাও এলাকায় নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ নামের একটি চলন্ত ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। কিছু বুঝে উঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওই ট্রেনের তিনটি বগিতে। পরে যাত্রীদের চিৎকারে থামানো হয় ট্রেনটি। কিন্তু পুড়ে যাওয়া ট্রেনের একটি বগি থেকে মা-শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর ভোররাতে গাজীপুরের শ্রীপুর রেল ব্রিজের পাশে লাইন কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এতে ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে একজন যাত্রী নিহত ও লোকো মাস্টারসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় ‘মহাসমাবেশ’ ডেকেছিল বিএনপি। তবে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে সেই আয়োজন ভ-ুল হয়ে যায়। তারপর থেকেই বিএনপি ও সমমনারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে আসছে।
এর মধ্যেই ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলে পাঁচটি বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার সঙ্গে আহত হয়েছে অনেকে। পুরোপুরি পুড়ে গেছে রেলের সাতটি কোচ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আটটি কোচ এবং একটি ইঞ্জিন।
এছাড়া লাইনে আগুন দেয়া, ফিসপ্লেট তুলে ফেলা, ককটেল বিস্ফোরণের বেশকিছু ঘটনার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলে কমিউটার ট্রেন, মৌলভীবাজারে পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া দেশের বিভিন্নস্থানে ট্রেনে নাশকতার চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
এমন প্রেক্ষাপটে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রেলের নিরাপত্তায় একাধিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে র্যাব। এর মধ্যে রয়েছে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি। র্যাবের টিম রেলের বগিগুলো স্ক্যানও করছে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নাশকতার আশঙ্কায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রেলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ঢাকা) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে রেললাইনে পেট্রলিং বাড়ানো হয়েছে, এছাড়া বিভিন্ন রুটে ট্রেন যাওয়ার আগে ইঞ্জিন এবং ট্রলি দিয়ে এডভান্স পাইলটিং করা হচ্ছে।’
অর্থ-বাণিজ্য: সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন
অর্থ-বাণিজ্য: কেএফসি’র মেন্যুতে নতুন সংযোজন: বক্স মাস্টার
অর্থ-বাণিজ্য: রপ্তানিতে নগদ সহায়তা আরও ছয় মাস একই থাকছে
অর্থ-বাণিজ্য: সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২৬ জারি
অর্থ-বাণিজ্য: আইপিওতে লটারি ব্যবস্থা আবারও ফিরছে
আন্তর্জাতিক: সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক মিলে গঠিত হচ্ছে ‘ইসলামিক নেটো’