শিবালয় (মানিকগঞ্জ) : যমুনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী বারুনীর মেলায় স্নানরত নারী-পুরুষ -সংবাদ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচার যমুনা নদীর তীরবর্তি এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথারীতি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ সকাল থেকে হাজার হাজার পূণ্যার্থী নারী-পুরুষ এই স্নানোৎসবে অংশ নেন। শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতি এ উৎসব পরিচালনা করছেন। এতে সহযোগীতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ,বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্ট ও শিবালয় সার্বজনীন মন্দির কমিটি।
এদিকে এ স্নানোৎসবকে ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকে ৩ দিনব্যাপী মেল শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ৩ দিনব্যাপী এই মেলা হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলে সাত হতে দশদিন পর্যন্ত মেলা চলতে থাকে। তবে এবার ঈদ উৎসবের ও পহেলা বৈশাখের কারণে মেলার দিন আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। অনুকুল পরিবেশ থাকলে মেলা সাত হতে দশদিন চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ মেলার মধ্যেই ঈদ ও পহেলা বৈশাখ রয়েছে। মেলায় আগত দোকানদারদের সাথে কথা বলে এমন কথা জানা গেছে। তদুপরি মেলায় আগত সকল দোকানদারদের সুবিধার্থে খাজনা মুক্ত দোকানদারি ঘোষনা করেছেন শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আলাল উদ্দিন আলাল। যার ফলে এবার উৎসব আরো কয়েকদিন বেশী থাকরে বলে দোকানদাররা জানিয়েছেন।
আরিচার যমুনা নদীর পাড়ে ও তীরে বিশাল চরে বসা ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজ-সজ্জার নানা দোকান, বাশ-কাঠের সামগ্রী ,বেত-তালাই পন্য, মাটির বিভিন্ন সামগ্রী, লোহার তৈরী আসবাবপত্রসহ গৃহকাজে ব্যবহার্য্য সামগ্রীর দোকান, মিষ্টি, বিন্নি, খৈই, আখড়া, সাজ, বাতাসাসহ নানা ধরনের খাদ্য সামগ্রীর দোকান বসেছে এই মেলায়।
স্নান করতে আসা নিখিল কুমার মালো বলেন, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনেছি এই স্নানের মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্নান করতে এসেছি। তিনি আরো বলেন, আগত সবাই নির্বিঘ্নে স্নান করছে এবং চাদাবাজমুক্ত মেলা এবার আরও আনন্দময় হবে।
শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম,ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদ,প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ/চারশ বছর ধরে এই বারুনী স্নান ও মেলা আরিচায় যমুনার তীরে অনুষ্টিত হয়ে আসছে। এই উৎসব হিন্দু ধর্মালম্বীদের হলেও মেলাকে ঘিরে হিন্দু-মুসলমানদের সোহার্দ্যপূর্ণ মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। আগত পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের বন্দর সমিতি,ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্নান করতে আসা প্রত্যেক পূণ্যার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুর-দুরান্ত থেকে আসা পূর্ণ্যার্থীদের জন্য পোষাক বদলানোসহ সকল ধরণের সুব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরহিত নারায়ণ চক্রবর্ত্তী (নারায়ণ ঠাকুর) বলেন, চত্রিমাসের মধু কৃঞ্চ ত্রয়োদশ তীথিতে এই মহা গঙ্গা-বারুনী স্নান অনুষ্টিত হয়। প্রতিবছরের মতো এবার সকাল ৭টা ৫৩ মিনিট থেকে এই মহা বারুনী গঙ্গা স্নান শুরু হয়েছে চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। আরিচা ঘাটের এ বারুনী স্নান প্রায় ৪শ’ বছরের ঐতিহ্য। ভারতের কলিকাতা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তি বিভিন্ন এলাকা থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন এই মাহা বারুনী গঙ্গা স্নানে।
শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: ইকবাল হোসেন জানান, বারুনী স্নান উপলক্ষে আরিচার যমুনার পাড়ে বসা স্নান ও মেলায় আগত পূণ্যার্থী, দর্শনার্থী এবং দোকানীদের জন্য বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে পাহারাদার ও চৌকিদার দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শিবালয় থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশও সার্বিক নিরাপত্তার দায়ীত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। সকলের সহযোগীতায় আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শিবালয় ৩নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো: আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, আমাদের শিবালয়ে কয়েকশ’ বছরের ঐতিহ্য এই বারুণী গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হয়। এই স্নান হিন্দু ধর্মালম্বীরা উদযাপন করে থাকেন।
আমরা শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যাবসায়ী সমিতি’র পক্ষ থেকে সহযোগীতা করে থাকি। এবারের স্নান ভালভাবে হয়েছে এবং মেলাও সুন্দর ও সফলভাবে হবে এটাই আমি সকলের কাছে প্রত্যাশা করছি। তিনি আরো বলেছেন, মেলায় আগত সকল দোকানদারদের ঘাটের খাজনা মওকুফ করা হয়েছে। খাজনার নামে যাতে কোনরকম চাদাবাজি না হয় সেজন্য এই ব্যাবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) : যমুনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী বারুনীর মেলায় স্নানরত নারী-পুরুষ -সংবাদ
বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচার যমুনা নদীর তীরবর্তি এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথারীতি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ সকাল থেকে হাজার হাজার পূণ্যার্থী নারী-পুরুষ এই স্নানোৎসবে অংশ নেন। শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতি এ উৎসব পরিচালনা করছেন। এতে সহযোগীতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ,বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্ট ও শিবালয় সার্বজনীন মন্দির কমিটি।
এদিকে এ স্নানোৎসবকে ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকে ৩ দিনব্যাপী মেল শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ৩ দিনব্যাপী এই মেলা হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলে সাত হতে দশদিন পর্যন্ত মেলা চলতে থাকে। তবে এবার ঈদ উৎসবের ও পহেলা বৈশাখের কারণে মেলার দিন আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। অনুকুল পরিবেশ থাকলে মেলা সাত হতে দশদিন চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ মেলার মধ্যেই ঈদ ও পহেলা বৈশাখ রয়েছে। মেলায় আগত দোকানদারদের সাথে কথা বলে এমন কথা জানা গেছে। তদুপরি মেলায় আগত সকল দোকানদারদের সুবিধার্থে খাজনা মুক্ত দোকানদারি ঘোষনা করেছেন শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আলাল উদ্দিন আলাল। যার ফলে এবার উৎসব আরো কয়েকদিন বেশী থাকরে বলে দোকানদাররা জানিয়েছেন।
আরিচার যমুনা নদীর পাড়ে ও তীরে বিশাল চরে বসা ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজ-সজ্জার নানা দোকান, বাশ-কাঠের সামগ্রী ,বেত-তালাই পন্য, মাটির বিভিন্ন সামগ্রী, লোহার তৈরী আসবাবপত্রসহ গৃহকাজে ব্যবহার্য্য সামগ্রীর দোকান, মিষ্টি, বিন্নি, খৈই, আখড়া, সাজ, বাতাসাসহ নানা ধরনের খাদ্য সামগ্রীর দোকান বসেছে এই মেলায়।
স্নান করতে আসা নিখিল কুমার মালো বলেন, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনেছি এই স্নানের মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্নান করতে এসেছি। তিনি আরো বলেন, আগত সবাই নির্বিঘ্নে স্নান করছে এবং চাদাবাজমুক্ত মেলা এবার আরও আনন্দময় হবে।
শিবালয় বন্দর ব্যাবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম,ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদ,প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ/চারশ বছর ধরে এই বারুনী স্নান ও মেলা আরিচায় যমুনার তীরে অনুষ্টিত হয়ে আসছে। এই উৎসব হিন্দু ধর্মালম্বীদের হলেও মেলাকে ঘিরে হিন্দু-মুসলমানদের সোহার্দ্যপূর্ণ মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। আগত পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের বন্দর সমিতি,ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্নান করতে আসা প্রত্যেক পূণ্যার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুর-দুরান্ত থেকে আসা পূর্ণ্যার্থীদের জন্য পোষাক বদলানোসহ সকল ধরণের সুব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরহিত নারায়ণ চক্রবর্ত্তী (নারায়ণ ঠাকুর) বলেন, চত্রিমাসের মধু কৃঞ্চ ত্রয়োদশ তীথিতে এই মহা গঙ্গা-বারুনী স্নান অনুষ্টিত হয়। প্রতিবছরের মতো এবার সকাল ৭টা ৫৩ মিনিট থেকে এই মহা বারুনী গঙ্গা স্নান শুরু হয়েছে চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। আরিচা ঘাটের এ বারুনী স্নান প্রায় ৪শ’ বছরের ঐতিহ্য। ভারতের কলিকাতা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তি বিভিন্ন এলাকা থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন এই মাহা বারুনী গঙ্গা স্নানে।
শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: ইকবাল হোসেন জানান, বারুনী স্নান উপলক্ষে আরিচার যমুনার পাড়ে বসা স্নান ও মেলায় আগত পূণ্যার্থী, দর্শনার্থী এবং দোকানীদের জন্য বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে পাহারাদার ও চৌকিদার দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শিবালয় থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশও সার্বিক নিরাপত্তার দায়ীত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। সকলের সহযোগীতায় আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শিবালয় ৩নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো: আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, আমাদের শিবালয়ে কয়েকশ’ বছরের ঐতিহ্য এই বারুণী গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হয়। এই স্নান হিন্দু ধর্মালম্বীরা উদযাপন করে থাকেন।
আমরা শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যাবসায়ী সমিতি’র পক্ষ থেকে সহযোগীতা করে থাকি। এবারের স্নান ভালভাবে হয়েছে এবং মেলাও সুন্দর ও সফলভাবে হবে এটাই আমি সকলের কাছে প্রত্যাশা করছি। তিনি আরো বলেছেন, মেলায় আগত সকল দোকানদারদের ঘাটের খাজনা মওকুফ করা হয়েছে। খাজনার নামে যাতে কোনরকম চাদাবাজি না হয় সেজন্য এই ব্যাবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।