শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল -সংবাদ
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রাজকান্দি হিল রিজার্ভ ফরেস্টে চলমান গাছ–বাঁশ উজাড়ের পাশাপাশি এবার দেখা গেছে পাকা স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা। বনের ভেতর ভিলেজারদের কাঁচা ঘরবাড়ি নির্মাণে বন বিভাগ দীর্ঘদিন ছাড় দিলেও পাকা বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নেই। তবু গত কয়েক বছরে রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের কালেঞ্জি গ্রামে কয়েকটি পাকা ঘর উঠেছে—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা এবং পরিবেশবাদীরা। কালেঞ্জি গ্রামে রাস্তার পাশেই পাশাপাশি তিনটি পাকা ঘর। স্থানীয়দের দাবি, খালিক মিয়ার পুত্র নুরনবী, আব্দুল নবী এবং মহেব উল্ল্যারা এসব ঘর নির্মাণ করেছেন। বনবিভাগের কর্মীরা প্রতিদিনই ওই সড়কপথ ব্যবহার করলেও নির্মাণের সময় কোনো বাধা না দেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে গাছের একটা পাতাও ছেঁড়া যায় না বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া। অথচ তাদের সামনেই পাকা বাড়ি উঠে গেল।
রাজকান্দি হিল রিজার্ভ ফরেস্ট মোট ২০ হাজার ২৭০ একর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। আদমপুর, কুরমা ও কামারছড়া বনবিটের অংশজুড়ে এই বন ‘ইন্দো-বার্মা’ জীববৈচিত্র্য অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ খণ্ড। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জার্নাল অব প্লান্ট ট্যাক্সোনমি-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়—এ বনে রয়েছে ১২৩টি উদ্ভিদ পরিবারের ৫৪৯টি সপুষ্পক উদ্ভিদের প্রজাতি। প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি ও সোনালি বিড়াল, এশীয় কালো ভালুক, বনছাগল, খুদে নখের ভোঁদড়, বনরুইসহ বহু সাইট্রাসভুক্ত প্রাণীও এখানে বিচরণ করে।
এই বনে ভিলেজারদের দীর্ঘমেয়াদি বসতি থাকার প্রচলন নতুন নয়। বন বিভাগের অনুমতিতে তারা বহু বছর ধরে কাঁচা ঘরে বসবাস করেন এবং বন রক্ষায় স্থানীয় ভূমিকা রাখেন বলেই দাবি। কিন্তু পাকা ঘর নির্মাণ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী স্পষ্টতই অবৈধ। পরিবেশবিদরা বলছেন, পাকা স্থাপনা মানে স্থায়ী দখলদারিত্ব। এতে বনভূমি সংকুচিত হবে, প্রাণীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ হবে এবং বন দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে যাবে।”
এ প্রসঙ্গে রাজকান্দি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “সংরক্ষিত বনের মধ্যে পাকা স্থাপনার কোনো অনুমতি নেই। আমি এখানে বেশি দিন হয়নি। কালেঞ্জি গ্রামে যে পাকা ঘর হয়েছে—এটি খতিয়ে দেখব। সংরক্ষিত বনে পাকা স্থাপনা বনভূমি ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট এবং পরিবেশগত ভারসাম্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে—এমন সতর্কবার্তা বহুদিন আগেই দিয়েছে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও সংরক্ষণকর্মীরা। তবু নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণ কাজ প্রশ্ন তুলছে বনবিভাগের তদারকি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সংরক্ষিত বন রক্ষার বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে।
রাজকান্দির এই নীরব অবক্ষয় বন্ধে জরুরি তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বিত সংরক্ষণনীতির দাবি উঠছে নানা মহল থেকে।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল -সংবাদ
রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রাজকান্দি হিল রিজার্ভ ফরেস্টে চলমান গাছ–বাঁশ উজাড়ের পাশাপাশি এবার দেখা গেছে পাকা স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা। বনের ভেতর ভিলেজারদের কাঁচা ঘরবাড়ি নির্মাণে বন বিভাগ দীর্ঘদিন ছাড় দিলেও পাকা বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নেই। তবু গত কয়েক বছরে রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের কালেঞ্জি গ্রামে কয়েকটি পাকা ঘর উঠেছে—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা এবং পরিবেশবাদীরা। কালেঞ্জি গ্রামে রাস্তার পাশেই পাশাপাশি তিনটি পাকা ঘর। স্থানীয়দের দাবি, খালিক মিয়ার পুত্র নুরনবী, আব্দুল নবী এবং মহেব উল্ল্যারা এসব ঘর নির্মাণ করেছেন। বনবিভাগের কর্মীরা প্রতিদিনই ওই সড়কপথ ব্যবহার করলেও নির্মাণের সময় কোনো বাধা না দেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে গাছের একটা পাতাও ছেঁড়া যায় না বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া। অথচ তাদের সামনেই পাকা বাড়ি উঠে গেল।
রাজকান্দি হিল রিজার্ভ ফরেস্ট মোট ২০ হাজার ২৭০ একর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। আদমপুর, কুরমা ও কামারছড়া বনবিটের অংশজুড়ে এই বন ‘ইন্দো-বার্মা’ জীববৈচিত্র্য অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ খণ্ড। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জার্নাল অব প্লান্ট ট্যাক্সোনমি-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়—এ বনে রয়েছে ১২৩টি উদ্ভিদ পরিবারের ৫৪৯টি সপুষ্পক উদ্ভিদের প্রজাতি। প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি ও সোনালি বিড়াল, এশীয় কালো ভালুক, বনছাগল, খুদে নখের ভোঁদড়, বনরুইসহ বহু সাইট্রাসভুক্ত প্রাণীও এখানে বিচরণ করে।
এই বনে ভিলেজারদের দীর্ঘমেয়াদি বসতি থাকার প্রচলন নতুন নয়। বন বিভাগের অনুমতিতে তারা বহু বছর ধরে কাঁচা ঘরে বসবাস করেন এবং বন রক্ষায় স্থানীয় ভূমিকা রাখেন বলেই দাবি। কিন্তু পাকা ঘর নির্মাণ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী স্পষ্টতই অবৈধ। পরিবেশবিদরা বলছেন, পাকা স্থাপনা মানে স্থায়ী দখলদারিত্ব। এতে বনভূমি সংকুচিত হবে, প্রাণীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ হবে এবং বন দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে যাবে।”
এ প্রসঙ্গে রাজকান্দি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “সংরক্ষিত বনের মধ্যে পাকা স্থাপনার কোনো অনুমতি নেই। আমি এখানে বেশি দিন হয়নি। কালেঞ্জি গ্রামে যে পাকা ঘর হয়েছে—এটি খতিয়ে দেখব। সংরক্ষিত বনে পাকা স্থাপনা বনভূমি ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট এবং পরিবেশগত ভারসাম্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে—এমন সতর্কবার্তা বহুদিন আগেই দিয়েছে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও সংরক্ষণকর্মীরা। তবু নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণ কাজ প্রশ্ন তুলছে বনবিভাগের তদারকি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সংরক্ষিত বন রক্ষার বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে।
রাজকান্দির এই নীরব অবক্ষয় বন্ধে জরুরি তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বিত সংরক্ষণনীতির দাবি উঠছে নানা মহল থেকে।