ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
দিনাজপুরে ফেইসবুকে লাইভ করে চাঞ্চল্যকর কৃষক হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও চার্জশিট দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। এমন অভিযোগ এনে রোববার,(৩০ নভেম্বর ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত কৃষক মাহফুজুলের পরিবার। তাদের অভিযোগ, মামলার চার্জশিট থেকে অন্যায়ভাবে আসামিদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতা রেজানুল হকের ভাই এ.জেড.এম মিনহাজুল হক ও তার সহযোগী আব্দুল মোমিন ওরফে গেদু এবং আবু বক্কর সিদ্দিকের সংশ্লিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও তদন্তে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া রিকশাচালককে হত্যা করা হয়েছে ক্যাসিনো সম্রাট চক্রের মূল হোতা সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সিয়ামের নির্দেশে। সিয়ামও বিএনপি নেতা রেজওয়ানুল ও তার ভাই মিনহাজুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় বলে অভিযোগ করে নিহত কৃষক মাহফুজুরের পরিবার।
লিখিত বক্তব্যে সজীব ইসলাম বলেন, তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল প্রকাশ্যে ফেইসবুকে লাইভে তার বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ১১দিন পার হলেও কোনো থানাই মামলা গ্রহণ করেনি। সাংবাদিকদের নির্ভীক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর পুলিশ বাধ্য হয়ে মামলা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সংবাদ না হলে হয়তো মামলা হতো না। আমরা আপনাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ।’
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হক চক্রের অবৈধ প্রভাব, রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। এ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন এ.জেড.এম মিনহাজুল হক, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুল মোমিন ওরফে গেদু, আবু বক্কর সিদ্দিক এবং রাজনৈতিক প্রশ্রয়দাতা এ.জেড.এম রেজওয়ানুল হক। পরিবার দাবি করে- টেন্ডার, রেলওয়ের জমি দখল, বনায়ন, পাথর খনি সব জায়গায় এই চক্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কৃষক মাহফুজুল এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও থানায় অভিযোগ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সজীব অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজানো চার্জশিট দেয়া হয়েছে, যেখানে ১ ও ২ নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম বাদ রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মধ্যপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের আইসি উজ্জ্বল, পার্বতীপুর থানার ওসি আব্দুল মামুন এবং হক চক্রের প্রভাবশালীরা যোগসাজশে এই চার্জশিট তৈরি করেছেন। পরিবার ইতোমধ্যে আদালতে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জিদান আল মুসারের প্রতি আস্থা জানিয়ে পরিবারটি বলেন, তারা বিশ্বাস করেন একজন ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। একই সঙ্গে তারা পুলিশের আইজি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। যাতে আসামিরা আইনের আওতায় আসে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। সজীব বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, সঠিক তদন্ত ছাড়া আমাদের পরিবারের সঙ্গে এই অন্যায় রুখে দেয়া সম্ভব নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী সঞ্জু আরা খাতুন বলেন, ‘আমরা এই চক্রের কাছে জিম্মি, আমরা রাষ্ট্রের কাছে আশ্রয় চাই। আমাদের রক্ষা করুন, আমার স্বামীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।
আগামী ১ ডিসেম্বও (আজ) আসামিরা জামিন নিতে আসবে, আমরা চাই, জনগণ জানুক হত্যাকারীরা যেন জামিন না পায়।’
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
দিনাজপুরে ফেইসবুকে লাইভ করে চাঞ্চল্যকর কৃষক হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও চার্জশিট দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। এমন অভিযোগ এনে রোববার,(৩০ নভেম্বর ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত কৃষক মাহফুজুলের পরিবার। তাদের অভিযোগ, মামলার চার্জশিট থেকে অন্যায়ভাবে আসামিদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতা রেজানুল হকের ভাই এ.জেড.এম মিনহাজুল হক ও তার সহযোগী আব্দুল মোমিন ওরফে গেদু এবং আবু বক্কর সিদ্দিকের সংশ্লিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও তদন্তে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া রিকশাচালককে হত্যা করা হয়েছে ক্যাসিনো সম্রাট চক্রের মূল হোতা সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সিয়ামের নির্দেশে। সিয়ামও বিএনপি নেতা রেজওয়ানুল ও তার ভাই মিনহাজুল হকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় বলে অভিযোগ করে নিহত কৃষক মাহফুজুরের পরিবার।
লিখিত বক্তব্যে সজীব ইসলাম বলেন, তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল প্রকাশ্যে ফেইসবুকে লাইভে তার বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ১১দিন পার হলেও কোনো থানাই মামলা গ্রহণ করেনি। সাংবাদিকদের নির্ভীক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর পুলিশ বাধ্য হয়ে মামলা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সংবাদ না হলে হয়তো মামলা হতো না। আমরা আপনাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ।’
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হক চক্রের অবৈধ প্রভাব, রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। এ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন এ.জেড.এম মিনহাজুল হক, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুল মোমিন ওরফে গেদু, আবু বক্কর সিদ্দিক এবং রাজনৈতিক প্রশ্রয়দাতা এ.জেড.এম রেজওয়ানুল হক। পরিবার দাবি করে- টেন্ডার, রেলওয়ের জমি দখল, বনায়ন, পাথর খনি সব জায়গায় এই চক্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কৃষক মাহফুজুল এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও থানায় অভিযোগ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সজীব অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজানো চার্জশিট দেয়া হয়েছে, যেখানে ১ ও ২ নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম বাদ রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মধ্যপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের আইসি উজ্জ্বল, পার্বতীপুর থানার ওসি আব্দুল মামুন এবং হক চক্রের প্রভাবশালীরা যোগসাজশে এই চার্জশিট তৈরি করেছেন। পরিবার ইতোমধ্যে আদালতে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জিদান আল মুসারের প্রতি আস্থা জানিয়ে পরিবারটি বলেন, তারা বিশ্বাস করেন একজন ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। একই সঙ্গে তারা পুলিশের আইজি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। যাতে আসামিরা আইনের আওতায় আসে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। সজীব বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, সঠিক তদন্ত ছাড়া আমাদের পরিবারের সঙ্গে এই অন্যায় রুখে দেয়া সম্ভব নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী সঞ্জু আরা খাতুন বলেন, ‘আমরা এই চক্রের কাছে জিম্মি, আমরা রাষ্ট্রের কাছে আশ্রয় চাই। আমাদের রক্ষা করুন, আমার স্বামীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।
আগামী ১ ডিসেম্বও (আজ) আসামিরা জামিন নিতে আসবে, আমরা চাই, জনগণ জানুক হত্যাকারীরা যেন জামিন না পায়।’