খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জমি দখলের চেষ্টা

প্রতিনিধি, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা গ্রামের খ্রিস্টান পল্লীর বাসিন্দা বাবুল গোমেজের ভোগ দখলীয় জমি দখলের চেস্টা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ইতিমধ্যে ক্ষেতের প্রায় এক একর রোপা আমন নস্ট করে ফেলেছে। অপর এক একর মোটা ধান পাকতে শুরু করলেও তা কাটতে ক্ষেতে যেতে পারছে না খ্রিস্টান পল্লীর লোকজন। এখন আবার নতুন করে বাবুলের জমিতে তুরমুজ চাষ শুরু করেছে প্রভাবশালী আবুল বাশারসহ তার ও লোকজন। এদিকে ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার খ্রিস্টান পল্লীর বাবুল গোমেজের জমি ওপর হুমকি-ধমকি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের করে যাচ্ছে। উপায়ন্ত না দেখে বাবুল ২৬ আগষ্ট পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ চার মাসেও এ ব্যাপারে সুরাহা হয়নি। ফলে বাবুল গোমেজ এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

বাবুল গোমেজ জানান, দীর্ঘ ১০০ বছরের অধিককাল থেকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন মাটিভাঙ্গা গ্রামের খ্রিস্টান পল্লীতে বসবাসসহ তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে চাষাবাদ করে ফসল উৎপাদন, রক্ষাবেক্ষনসহ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। ১৯৮৬ সালে সরকারে তার অনুকূলে ২ একর জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়। ওই জমির সরকারি কবুলত দলিলসহএই জমি এস,এ-বিএস তার নামে এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের খাজনা পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন বাবুল গোমেজ। কিন্তু ৫ আগস্টের পর স্থানীয় প্রভাবশালী আবুল বাশার তার লোকজ নিয়ে বাবুলের ভোগদখলীয় ৭৫৪ নং খতিয়ানের সম্পত্তিতে চাষাবাদে বাধা, পরিবারের উপর বিভিন্ন কায়দায় অত্যাচার-নির্যাতন করে যাচ্ছে।

বাবুল অভিযোগ করে বলেন, আমন মৌসুমে স্থানীয় আবুল বাশার তার ক্ষেতের অধেকঅংশ রোপা আমন নস্ট করে দিয়েছে। বাকি অর্ধেক ক্ষেতে এখন মোটা ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু ধান কাটতে ক্ষেতে যেতে দিচ্ছে না আবুল বাশার ও তার লোকজন। বাবুল জানায়, তিনি খ্রিস্টান পল্লীর সভাপতি। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনের সমস্য সমাধানে তিনি এগিয়ে আসেন। এই অবস্থায় জোর করে জমি দখলের উদ্দেশ্যে খ্রিস্টান বাবুলকে এলাকা থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে বাবুলের উপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় বাবুল পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত ভাবে অবহিত করেছেন। পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে এর সমাধান আজও হয়নি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আবুল বাশার জানায়, আসলে বিগত সরকারের আমলে বাবুল গোমেজ জোর করে এই জমি ভোগদখল করেছে। এই জমি আমাদের। ৫ আগস্টের পর আমারা এই জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে যায়।

উচ্চ আদালত থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি এই জমি নিজের দাবি করেছেন। দীর্ঘদিনেও বিষয়টি সমাধান না হওয়া প্রসঙ্গে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক সাদেকুর রহমান জানান, এর আগে বিষয়টি তদন্তে দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি তদন্ত করছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু দিন তারিখ দেওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে আবুল বাশার তার ওই জমির মালিকানা কাগজপত্র নিয়ে না আসায় বিষয়টি মিমাংসা করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি