শাহজাদপুরে নবজাতককে গলা কেটে হত্যার পর টয়লেটে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে পাষান্ড মা জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় হত্যার পর বাড়ির পেছনে গর্ত খুঁড়ে নবজাতকের লাশ মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টাকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে লাশ ফেলে রেখে গা ঢাকা দিয়েছে নবজাতকের মা ও তার স্বজনরা। গতকাল বুধবার উপজেলার বাচড়া ভূতের দিয়া গ্রামের লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটেছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া ভূতের দিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে একই ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের নবী মন্ডলের ছেলে করিম মন্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জান্নাতুল ফেরদৌসের পরকীয়া প্রেমের ঘটনায় তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জেরে বিয়ের ৬ মাস পর জান্নাতুল ফেরদৌস তার স্বামী করিম মন্ডলকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এ সময় জান্নাতুল ফেরদৌস গর্ভবতী থাকলেও তার পরিবারের লোকজন বিষয়টি গোপন রাখে। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার রাতে জান্নাতুল ফেরদৌস একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর রাতেই জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার মা নবজাতকের গলা কেটে হত্যা করে টয়লেটে লুকিয়ে রাখে। পরদিন বুধবার ভোরে নবজাতকের লাশ মাটিচাপা দেওয়ার জন্য বাড়ির পেছনে গর্ত খুঁড়লে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ সময় পাষন্ড মা ও তার স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে করীম মন্ডলের মা নাজমা বেগম ও বাবা নবী মন্ডল জানান, করীমের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ের ৬ মাস পরেই ডিভোর্স হয়ে যায়। জান্নাতুল ফেরদৌসের গর্ভে করিমের সন্তান ছিল। সেই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।