গোবিন্দগঞ্জে শীতের প্রকোপ বেড়ে চলেছে। ছিন্নমূল মানুষের আহাজারি কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছে অনেক শ্রমজীবী মানুষ। তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে খেটে খাওয়া মানুষ গুলো কাজের উদ্দেশ্যে বেড় হলেও তারা স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে পাচ্ছে না। রিকশা, ভ্যানচালকরা পাচ্ছে না ভাড়া। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যান বাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষের কাজ না থাকায় তাদের দৈনন্দিন আয়ে টান পড়েছে। শীত নীবারণে অনেক খড়কুট শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছেন। গ্রামঞ্চলে এই দৃশ্য আরও প্রকোট, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। শীতার্তদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা জরুরি হয়ে উঠেছে। সরকারি ভাবে যে কম্বল এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে উচ্চ আর্দ্রতা, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
কুয়াশায় বিপর্যস্ত শ্রীমঙ্গল : তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি : দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটন নগরী, হাওর, পাহাড় ও চা বাগানবেষ্টিত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলার ৯৩টি চা বাগানের শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। টানা কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা কমতে থাকায় শীতের তীব্রতা যেন আরও বেড়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ১৪.৬ ডিগ্রি এবং সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা ছিল ১৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রবিবার তাপমাত্রা নেমেছিল ১২ ডিগ্রিতে এবং শনিবার ছিল ১৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশার কারণে প্রকৃত শীত অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি।
তীব্র শীত উপেক্ষা করেই সকাল থেকে কাজে বের হতে হচ্ছে চা শ্রমিক ও দিনমজুরদের। তবে পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে শীতের মধ্যে কষ্ট করে কাজ করতে হচ্ছে অনেককে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ, যাদের বড় একটি অংশকে খোলা আকাশের নিচেই কাজ করতে হয়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে রাত ও সকালের তীব্র ঠান্ডায় দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
গতকাল বুধবার সারা দিন আকাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন, সূর্যের দেখা মেলেনি। একই চিত্র বৃহস্পতিবার সকালেও। এতে ফুটপাত ও বাজারে গরম কাপড় কেনা-বেচা বেড়েছে। যদিও মাঝে মাঝে দিনের বেলায় রোদের দেখা মিলছে, তবুও শীতের তীব্রতা কমেনি।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ রোগীরা সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, কয়েকদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।