image

চুনারুঘাটে তীব্র শীতে ফুটপাতে গরম কাপড় বেচাকেনার হিড়িক

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে শীত ও ঘনকুয়াশার প্রভাব পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চুনারুঘাট উপজেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না। তীব্র শীত আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। বিশেষ কওে চাবাগান ও ছিন্নমূল মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লাদিয়ে উপজেলাজুড়ে ঠা-াজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ডায়রিয়া, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, আমাশয়সহ শ্বাসতন্ত্রেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বয়স্করা। এ উপজেলাটি পাহাড়ি ও চা বাগান অধ্যুষিত হওয়ার কারণে শীতের প্রকোপ বেশি থাকে। তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যেই উঠা নামা করে। এ অবস্থায় উপজেলার ২৫টি চা বাগান ও রেমা কালেঙ্গা এবং সাতছড়ি আদিবাসী এলাকার মানুষ এ শীতে চরম কষ্টের মধ্যে পড়েছে। অনেকেই শীত নিবারণে ফুটপাত থেকে গরম কাপড় সংগ্রহ করছেন। সরজমিন দেখা গেছে গত তিনদিন ধরেই ভোররাত থেকে এই কুয়াশা ও শীতের প্রভাব বাড়ছে, সকাল ১১টা পর্যন্ত দেখা মিলে না সূর্যের। এই উপজেলা পাহাড়িঘেঁষা এলাকা হওয়াতে শীত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ঘনকুয়াশা জনিত কারণে চুনারুঘাটের সড়কগুলোতে বিভিন্ন যানবাহনে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এই শীতের প্রভাবে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন হাট বাজারে পুরানো গরম কাপড় বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে বিত্তশালীদের লেপ-তোষক তৈরিসহ গরম কাপড় ক্রয়ের হিড়িক পড়েছে। আর গরিব ও অসহায় পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে এই শীত নিবারণে বস্ত্র ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে, পাহাড়ি, দুর্গম এলাকার অসহায় পরিবার ও বাগানের চা শ্রমিকেরা এখন শীতে কাহিল। অনেক অসহায় পরিবার রাস্তার ফুটপাতে, বাড়ির পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। অনেক অসহায় পরিবার রাস্তার ফুটপাতে, বাড়ির পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। চান্দপুর চা বাগানের চা শ্রমিক নেতা কাঞ্চন পাত্র বলেন, শীতে চা শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। কারণ তারা জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করে। নেই তাদের শীতের কম্বল কিংবা ভালো লেপ। তাদের জন্য বেশি বেশি শীত বস্ত্র বরাদ্দের দাবি জানাই। সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্তদেব বর্মা বলেন, আদিবাসীরা অনেক কষ্টে আছে। তাদের দেখার কেউ নেই। তিনি আদিবাসীদের জন্য শীতবস্ত্র কম্বল বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বলেন, রেমা কালেঙ্গার কয়েকটি পাড়ার মানুষ শীতে কষ্ট করছে। এদিকে শীতে বাড়ছে নানা রোগ। ডিসেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুরা।

শহরের মাদ্রাসা মার্কেটের রাস্তার দুপাশে বসেছে শীতের নতুন ও পুরনো কাপড়ের পসরা। এ ছাড়া শহরে ভ্যানগাড়ির ওপরও শীতের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। বিকাল থেকে নারী-পুরুষ-শিশুসহ ক্রেতারা ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। যদিও প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বেচা বিক্রি করেন দোকানিরা। বিক্রেতারা বলছেন, এসব দোকানের পোশাকের দাম জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। ফলে মার্কেটের দোকানের চেয়ে এখন বেশির ভাগ ক্রেতা ঝুঁকছেন ফুটপাতের দোকানে। তারা এখানে দেখেশুনে কম দামে নতুন ও পুরনো কাপড় কিনতে পারেন।  ফুটপাতের এক দোকানদার বলেন, পৌষ মাসের প্রথম দিকে বসে বসে সময় পার করেছি। এই কয়েক দিন শীত একটু বাড়ায় এখন মোটামুটি ব্যবসা ভালো হচ্ছে। জানি না শীত কতদিন থাকে। তবে কেনার চেয়ে ক্রেতারা কাপড় নাড়া চাড়া বেশি করেন। আর দামও বলে কেনার চেয়ে কম। কিছু বলার নেই। কারণ দশজন দেখবে একজন কিনবে। এটা ভেবেই ব্যবসা করছি।

ফুটপাতের দোকানে কাপড় কিনতে আসা সাইফুল বলেন, শীত নিবারণের জন্য প্রয়োজন গরম কাপড়। মার্কেটে কাপড়ের দাম বেশি। ফুটপাতে নতুন ও পুরনো কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম, আর দেখতেও খুব ভালো। তাই ফুটপাতের কাপড়ের দোকানে কিনতে এসেছি। যে চাদর ও সোয়েটার আমি এখান থেকে চার শথ টাকা দিয়ে কিনেছি, সেটা মার্কেটের দোকানে গেলে হাজার-বারো শথ টাকা লাগতো। গরিবের জন্য এই দোকানগুলো অনেক উপকারের।  ভ্যানে ফেরি করে শীতের কাপড় বিক্রি করা কয়েকজন দোকান দার বলেন, এসব কাপড় আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন রাস্তায় অলি-গলিতে বিক্রি করি। দাম কম হওয়ায় বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। শীত যত বাড়বে এই কাপড়ের চাহিদাও তত বাড়বে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» তেঁতুলিয়ায় অস্তিত্ব না থাকা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা চালু করার তৎপরতা বেড়েই চলছে

সম্প্রতি