image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, চিনে ফেলায় পেট্রোল ঢেলে শরীরে আগুন

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় খোকন দাস (৫০) নামের এক ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত খোকন দাস ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার পরেশ দাসের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খোকন দাস পেশায় একজন ওষুধ বিক্রেতা। পাশাপাশি তিনি মোবাইল ব্যাংকি বিকাশের এজেন্ট ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কেহরভাঙ্গা বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করে ৩ থেকে ৪ জন লোক তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর ও মুখে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরবর্তীতে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে আহত খোকন দাসের একটি ভিডিও বক্তব্য সংবাদের হাতে আসে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, বাবুল খাঁর পোলা সোহাগ ছিলো। সামসুদ্দিনের পোলা রাব্বি ছিল। ওরা তিনজন ছিলো, আমি একজনরে চিনছি। ওদের মধ্যে একজনে আমারে আগুন দিছে। সামসুদ্দিনের পোলা বলছিল কাকা আমিই।

আহতের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, আমি খবর পেয়ে দৌঁড়ে এসে দেখি আমার স্বামীর শরীরে আগুন জ্বলছে। তার শরীরে আর মাথায় কোপানো হয়েছে। আমার স্বামীর অবস্থা খুবই খারাপ। যারা আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রশাসন যেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, রোগীর মাথায় এবং হাতে আগুনে পোড়া ছিল। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান ও পেটে আঘাত করা হয়েছে।

পেটের আঘাতটি গুরুতর। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, আহত ব্যক্তি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। বাড়ি ফেরার পথে কিছু লোক তার থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। তিনি চিনে ফেলায় তাকে কোপানো হয় ও কেরোসিন জাতীয় কিছু দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» তেঁতুলিয়ায় অস্তিত্ব না থাকা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা চালু করার তৎপরতা বেড়েই চলছে

সম্প্রতি