image
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) : আলু খেতে পানি দিচ্ছেন কৃষক -সংবাদ

গজারিয়ায় আলু খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে মাঠে চলছে আবাদি আলু জমির পরিচর্যার কাজ। আলুর ফলন বৃদ্ধির জন্য জমিতে নিয়মিত পানি সেচ, মালচিং পদ্ধতিতে বোপণ করা আলু বীজের দুই সারির মাঝখানের ফাঁকা স্থানে শুকনো কচুরি, ঘাস ও খড়কুটো দেওয়া। জমির আগাছা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, পরিমিত সার প্রয়োগসহ পোকা-মাকর প্রতিরোধে বালাইনাশক ওষুধ স্প্রে করার কাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে, জমিতে রোপণ করা আলু উত্তোলণ শুরু করবেন কৃষকরা।

ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা জমিতে গজিয়ে ওঠা আলুগাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। কোথাও আলুক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। কোথাও গজিয়ে ওঠা গাছ পোকামাকড়ের কবল থেকে রক্ষায় কীটনাশক ছিটাচ্ছেন।

যেসব জমিতে চারা গজানোর বিষয়টি ধীর গতিতে হচ্ছে, সেখানে ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছে। এসব কাজ করতেই বিভিন্ন জেলা থেকে দল বেঁধে আসা কৃষি শ্রমিকরা বর্তমানে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভাড়া বাসা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রোপণ করা আলুর জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকরা।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন সবুজের সমারোহ।

গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের শুরুতে এ অঞ্চলে আলু বীজ রোপণ শুরু করা হয়। আলু উত্তোলণের সম্ভাব্য সময় ফেব্রুয়ারির শেষ কিংবা মার্চের শুরুতে। সংরক্ষণকারীরা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আলু কোল্ডস্টোরাইজ করে থাকেন। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এ অঞ্চলের আলুর ফলন গতবারের চাইতে বেশি হবে। গত বছর ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছিল। উল্লিখিত পরিমাণ জমিতে আলুর উৎপাদন ছিল ৬৪ হাজার মেট্রিক টন। চলতি বছর ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। গত মৌসুমে আলুর ভালো ফলনের পরও দরপতনের কারণে লোকসানে পড়েছিলেন আলু চাষিরা, গত মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে গজারিয়ার কৃষকরা উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে আলু চাষ করছেন।

গজারিয়া উপজেলার চরবাউশিয়া, ইমামপুর, ষোল আনি, টেংগারচর ও লক্ষ্মীপুরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় এক থেকে দেড় মাসের জমি গুলোতে এখন চলছে নিড়ানি প্রক্রিয়া (আগাছা পরিষ্কার)। সেচ প্রক্রিয়া (পানি দেওয়া)। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বালাই নাশকসহ ও প্রয়োগ করতে হয় জমিতে। এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকারের বীজের আলু রোপণ করা হলেও ডায়মন্ড বীজের আলুর চাষ বেশি হয়।

গজারিয়ায় কৃষকরা ৯০ শতাংশ ডায়মন্ড আলু চাষ করেন এবং ১০ শতাংশের হল্যান্ডের ক্যারেস ও এস্টোরিস জাতীয় অলুর বীজ বেশি রোপণ করা হয়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি