image

মাঠজুড়ে হলুদের আভা বেড়েছে সরিষার আবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, সদরপুর (ফরিদপুর)

সদরপুর উপজেলার দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত মাঠে হলুদের আভা। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। মাঠজুড়ে যেন হলুদ রঙের গালিচা বিছানো। রঙের পাশাপাশি সরিষার হলুদ ফুলের গন্ধ মাতিয়ে তুলেছে পুরো এলাকা। রঙ আর সুবাসে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে।

সদরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা ফুলে ভরে গেছে বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলের মাঠ। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতিমৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন প্রায় ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৬ হাজার ২শ মেট্রিক টন সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা আর কৃষি বিভাগের প্রণোদনা দেয়ায় এবার আবাদ বেশি হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিমিত পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো আশা করছেন তারা।

সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের মটুকচর গ্রামের কৃষক আরিফুর বিশ^াস বলেন, ‘এবার ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। যে কারণে সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি।

বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, সামনে কোনো প্রাকৃতি দুর্যোগ না হলে ৮০ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছি আমরা ১২ থেকে ১৫ মণ ফলন পাব বলে আশা করছি। বিষ্ণুপুরের কৃষক শহিদ মেম্বর বলেন, ‘এবার সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সরিষার বীজ ও সার পাওয়ায় বেশি পরিমাণ জমিতে আবাদ করা সম্ভব হয়েছে। এই কারণে এবার সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। তেলের যে দাম কিনে খাওয়ার মতো নেই। এবার সরিষার ফলন হলে সয়াবিন তেলের ওপর আমরা আর নির্ভর করব না। আমরা এবার নিজেদের জমির উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়েই সারা বছর চলব। সরিষা আবাদে আমাদের আমাদের পরামর্শের জন্যে কৃষি বিভাগের কাউকেই কাছে পাইনি,এমন অন্যন্ন মৌসুমেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকেও কোন মাঠ পরামর্শের জন্য খুজে পাওয়া যায় না, একজন কৃষক আরেকজন কৃষকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হয়।

বিষ্ণুপরের একজন কৃষক বলেন, (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) আমরা কৃষক, কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্ভর করে চলি, সব মৌসুমেই ফসল ফলাই, অথচ শস্য আবাদের সময় বা ফসলের ভরা মৌসুমেও কোন কৃষি অফিসের কোন মাঠকর্মকর্তাদের দেখা পাইনি, এমনকি কোন মাঠকর্মী আছে কিনা জানা নাই।যে কারনে ফসলের মাঠে কোন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা মাঠকর্মী কাউকেই পরামর্শ নেয়ার জন্যে পাওয়া যায় না। শুনেছি অজিত মন্ডল নামে একজন মাঠকর্মী আছে, কিন্তু কখনো দেখিনি।

এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো, শস্য নিবিড়তা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর কৃষকদের সার ও বীজ দেয়া হয়েছে। ফলন ভালো পেতে আমরা নিয়মিত কৃষক ভাইদের পরামর্শ দিচ্ছি। এতে যেমন সরিষার ফলন বাড়বে বলেই ধারণা করছি। আমরা এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষা পাব বলে আশা করছি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি