image
ছবিঃ সংগৃহীত

সিংগাইরে বছরজুড়ে ছিল আইনশৃঙ্খলার অবনতি

বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

২০২৫ সাল বছরটি জুড়েই ছিল মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি । জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়কালে হত্যা, জমি বিরোধে সংঘর্ষ, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার, ডাকাতের মারধর ও পারিবারিক কলহে প্রাণহানির ঘটনায় কাটল বছর। পুরো উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে চরম উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে । ধারাবাহিক এসব ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বছরের শুরুতে ২৩ জানুয়ারি হত্যারকান্ডের ঘটনা ঘটে। সিংগাইর পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া মোড় সংলগ্ন হেমায়েতপুর–মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশ এটিকে হত্যাকা- বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন।

৩০ এপ্রিল উপজেলার রায়দক্ষিণ এলাকায় নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় আজগর আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই খুন হন বলে পরিবারের দাবি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

২০ মে ধল্লা ইউনিয়নের খাসের চর কোলপাড় এলাকায় হানিফের ডাঙ্গার কাছে বাগ্বিতন্ডার জেরে কিশোর রাহুল খানকে (১৭)ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরদের মধ্যকার এ সহিংসতা নতুন করে প্রশ্ন ওঠে তরুণ সমাজের অপরাধ প্রবণতা নিয়ে।

১৭ আগস্ট তালেবপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় ডাকাতদের মারধরের শিকার হন মোহর উদ্দিন (৭০)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার ছেলে নুর মোহাম্মদ বাবু (৩০) আহত হন। পরে র?্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৪ অক্টোবর ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হানিফ আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত হানিফ এলাহী বেপারির ছেলে। এ ঘটনায় তার ভাই ও চাচাত ভাতিজাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। যা পারিবারিক বিরোধের ভয়াবহ রূপ আবারও সামনে আসে।

এদিকে,চান্দহর ইউনিয়নের চর চামটা আনন্দবাজার এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়ির পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মাদক কারবার সংক্রান্ত বিরোধে তাকে হত্যা করা হতে পারে।

২২ নভেম্বর ধল্লা ইউনিয়নের চর উলাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে জমি সংক্রান্ত বিরোধে শারফিন মোল্লাকে (৬০) কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি রউফুল মুন্সিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।

বছরের শেষ মাসেও থামেনি সহিংসতার ঘটনা । ২৫ ডিসেম্বর উত্তর জামশা নয়াপাড়া গ্রামে একটি নির্জন ঘর থেকে ফাইজুদ্দিনের (৫০) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী আক্তার ও তার প্রেমিক সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।

সবশেষ ২৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ জামশা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সৎ ভাইয়ের ছেলের ছোড়া ইটের আঘাতে আমির খান (৫৫) নিহত হন। নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এছাড়াও সারা বছরজুড়ে পৌর এলাকা ছাড়াও চান্দহর, জামশা ও ধল্লা ইউনিয়নে চুরি, বাড়িঘরে হামলা, গবাদিপশু ও ফসল লুটের অভিযোগ ওঠে আসে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন,অপরাধের ঘটনাগুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বেশীরভাগ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পুলিশি টহল, বিশেষ অভিযান ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে,শুধু পুলিশি তৎপরতা নয়—সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,পারিবারিক বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তরুণদের অপরাধমুখী প্রবণতা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সিংগাইরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি