image

সরকারি সিদ্ধান্ত মেনেছে উভয়পক্ষ, নির্বাচনের আগে ইজতেমা ময়দানে কোনো আয়োজন নেই

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
জেলা বার্তা পরিবেশক, গাজীপুর

সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ২-৪ জানুয়ারি খুরুজের জোড় ও ২২-২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে না। সরকারি সিদ্ধান্ত উভয়পক্ষ মেনে নেয়ায় উত্তেজনা নিরসন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিবদমান দুই পক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ ( শুরায়ী নেজাম) ২-৪ জানুয়ারি খুরুজের জোড় করছে না। প্যান্ডেল খুলে ফেলা হচ্ছে, ফলে এখন খালি হচ্ছে ইজতেমা ময়দান।

তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে খুরুজের জোড়সহ কোনো ধরনের সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ বিষয়ে বলা হয়, মুরুব্বিরা সবসময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলেন, ‘আগামী ২-৪ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য খুরুজের জোড়ে যারা অংশগ্রহণ করতেন, অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা ও তিন চিল্লার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে টঙ্গী ইজতেমা মাঠে জমায়েত না হয়ে তাদেরকে নিজ নিজ জেলা ও এলাকা থেকেই বের হওয়ার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যারা পাঁচ দিনের জোর থেকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়েছিলেন তাদেরকেও ইজতেমা মাঠে এখন না এসে ওয়াক্ত পুরা করে আসার জন্য মুরুব্বিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, টঙ্গী মাঠে কোনো ধরনের সমাবেশ হচ্ছে না।’ খুরুজের জোড় উপলক্ষে টঙ্গী মাঠে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে একটি টিম বিষয়গুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (সাদপন্থী) গণমাধ্যম সমন্বয়ক মো. সায়েম গণমাধ্যমকে জানান, খুরুজের মজমার নামে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করেছিল জুবায়ের পন্থিরা। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশনার, গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের কাছে প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছি। আমরা নির্বাচনের আগে টঙ্গীর ময়দানে একপক্ষের ইজতেমা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে জুবায়ের পন্থিরা খুরুজের নামে ইজতেমা করলে আমরা ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি ইজতেমা করবো বলে সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। যেহেতু তারা খুরুজ করবে না তাই আমরাও ২২-২৪ ইজতেমা করবো না। আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ২ নভেম্বর র্ধম উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তাবলীগের উভয়পক্ষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা হবে না। নির্বাচন হওয়ার পর নতুন সরকারের তত্ত্বাবধানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত প্রতিপালনের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। জুবায়ের পন্থিরা এই প্রথম জোড় ইজেতমার পর ২০২৬ সালের ২-৪ জানুয়ারি খুরুজের মজমা করার জন্য কাজ শুরু করে। তার সারাদেশে চিঠি দিয়ে সাথীদের খুরুজের মজমায় আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এ খবরে সাদপন্থিরা জুবায়ের পন্থিদের বিরুদ্ধে খুরুজের নামে ইজতেমা করার অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ধর্ম উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কশিনারের নিকট আবেদন করে আগামী ২২-২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা করার জন্য তারিখ জানিয়ে সহযোগিতা চায়। ফলে একপক্ষের খুরুজের মজমা ও অন্যপক্ষের ইজতেমা ঘোষণা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এই অবস্থায় দুইপক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ায় আপাতত উত্তেজনা নিরসন হয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্ব ইজতেমা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে ধর্মীয় কাজের ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে সব কিছু বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ব ইজতেমার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বপ্রাপ্ত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি শাহীন খান জানান, চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারি আদেশ প্রতিপালনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত: ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীতে এক পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় দুই ভাগে ইজতেমা শুরু হয়। ২০১৮ সালে জুবায়ের পন্থি ও সাদ পন্থিদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত হওয়ায় একজন মুসল্লি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর থেকে জুবায়ের পন্থিরা এক পর্ব ও সাদ পন্থিরা আরেক পর্ব ভাগ করে নিয়ে ইজতেমা করা শুরু করে। ২০২৪ সালে জুবায়ের পন্থি ও সাদ পন্থিদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন মারা যাওয়ায় এ পর্যন্ত ৫ জন মুসল্লি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে কয়েকশ’ মুসল্লি। গত বছর ইজতেমা ময়দানে বড় হত্যাকা-ের কারণে সৃষ্ট জটিলতায় দুই ধাপে তিন পর্বে বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত হয়। ২০২৬ সালের ইজতেমার প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে এ বছর জুবায়ের পন্থিরা ইজতেমা ময়দানে ও সাদ পন্থিরা ঢাকার কেরানীগঞ্জে জোড় ইজতেমা সম্পন্ন করে। সরকারি ঘোষণা অনুয়ায়ী জাতীয় নির্বাচনের পর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি