নীলফামারীর ডিমলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই একটি আনসার ক্যাম্পে পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও রাষ্ট্রবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুড়ি তিস্তা নদী পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গত বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই তা-বের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সকালে দুর্বৃত্তরা আনসার সদস্যদের ক্যাম্প থেকে বের করে দিয়ে সম্পূর্ণ জবরদখল নিয়েছে। পরে ক্যাম্পের স্থাপনা ভেঙে ফেলে ব্যাপক লুটতরাজ চালানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ডোমার ও ডিমলা থানার পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
হামলায় আনসার বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই, আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর, রেশন, পোশাক ও সরকারি মালামাল লুট করা হয়। একই সঙ্গে নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত ৭টি এক্সকেভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেয়া হয়। গত ২ দিনে সরকারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বুড়ি তিস্তা নদীসংলগ্ন আনসার ক্যাম্প ও খনন প্রকল্প এলাকায় চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আনসার ক্যাম্পে অবস্থানরত আনসার সদস্যদের বের করে দিয়ে দুর্বৃত্তরা দখল নেয়। এরপর ক্যাম্পের টিনশেড ও পাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। দরজা-জানালা, জেনারেটর মেশিনসহ সব মালামাল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আনসার ক্যাম্পটি কার্যত মাঠে পরিণত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নয়; বরং সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা। সন্ধ্যার দিকে আলীম নামের এক ব্যক্তি মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারের বেশি মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়।
ক্যাম্পে কর্মরত আনসার সদস্য মো. এনামুল হক বলেন, হামলাকারীরা তাদের থাকার কক্ষ, অফিস, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। রেশন, পোশাক ও নগদ অর্থসহ ব্যক্তিগত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলি ছিনতাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে একাধিক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। আহতদের মধ্যে পথচারী, আনসার সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছেন।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, এই হামলা ও ভাঙচুরে ২ দিনে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি গুরুতর অপরাধ। সরকারি জমি উদ্ধারসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তিনি অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে নারকীয় তা-ব চালালেও কোনো প্রতিরোধ করা হয়নি বা কোনো প্রকার আইন প্রয়োগ করা হয়নি তাদের ওপর।
জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিভিএম) বলেন, ‘১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই হয়েছে।
এটি বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তবে পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। দ্বিতীয় দিনেও দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালিয়ে যায়।
সেনা ও পুলিশের উপস্থিতিতেই আনসার ক্যাম্প দখল, অস্ত্রের গুলি লুট এবং দ্বিতীয় দিনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতি সবমিলিয়ে ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডোমার ও ডিমলা থানার পুলিশ এবং বিপুলসংখ্যক সেনাবাহিনী সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
অপরাধ ও দুর্নীতি: স্ত্রীসহ চসিকের সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
অপরাধ ও দুর্নীতি: হাদি হত্যা: আদালতে ‘দোষ স্বীকার’ করে সঞ্জয় ও ফয়সালের জবানবন্দি