image

ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে: চট্টগ্রামে মতবিনিময় সভা

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
চট্টগ্রাম ব্যুরো

আটাবের সাবেক মহাসচিব লায়ন আসলাম খান বলেছেন, ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল করতে হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের আইন এবং ২০২১ সালের সংশোধনী আইনের পরিবর্তন করে নতুন যে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৫ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে মালিক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন, যা পুরো খাত এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৫ বাতিলের দাবিতে করণীয় সংক্রান্ত মত বিনিময় সভা চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে গত মঙ্গলবার রাতে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আটাব’র সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো. শাহা আলম এর সভাপতিত্বে ও হাব’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম সেক্রেটারি মো. আবদুল মালেকের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন হাব চট্টগ্রাম জোন এর চেয়ারম্যান শরীফ উল্ল্যাহ শহীদ। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, পরিবারের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টি সীমিত থাকার কারণে তারা বড় এজেন্সি থেকে টিকেট সংগ্রহ করে গ্রাহকদের সেবা দেন। এটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বানানো হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জালাল উদ্দিন টিপু বলেন, নতুন অধ্যাদেশে যেসব সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে, তার অনেকগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

স্বাগত বক্তব্যে আটাব সদস্য মো. জুম্মাান চৌধুরী বলেন, ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল না হলে শুধু যে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নয় এই ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। এই ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৫ কার্যকর হওয়ার অর্থ সরাসরি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদের পথে বসিয়ে দেয়ার সামিল। তাই আমরা সব ব্যবসায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আটাব হাব এর সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, নড়িয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুজ মুন্সী, আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম হাবের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান চৌধুরী, ঢাকা থেকে আগত মেহমানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা ফজলুর রহমান, হাব ইসি মেম্বার মুফতি জোনায়েদ গুলজার, হাবের পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি জাহিদ আলম, হাবের সাবেক সেক্রেটারি ও বর্তমান ইসি মেম্বার আজহারুল ইসলাম চৌধুরীসহ অন্য নেতারা।

এই সময় বক্তারা আরও বলেন, যে আইন ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষা না করে বরং ব্যবসাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়, সেই আইন আমরা কখনোই বাস্তবায়ন করতে দেবো না। এই বৈষম্যমূলক ও বাস্তবতাবিবর্জিত আইনের বিরুদ্ধে আমরা ঢাকায় জোরালো ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবো। আমরা আন্দোলনের ডাক দিলে-দেশের প্রতিটি নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির মালিক ও কর্মীরা ঢাকায় উপস্থিত হবেন। ট্রাভেল এজেন্সি সেক্টরে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সবাই উদ্যোক্তা, সবাই ব্যবসায়ী।

এই সেক্টর বি২বি মডেলের মাধ্যমে হাজারো নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করেছে। বড় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ছোট ছোট উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছে, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যখন অপরিপক্ক, বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাহীন মানুষদের হাতে আইন প্রণয়ন হয়, তখন সেই আইন উন্নয়ন আনে না, বরং একটি সম্ভাবনাময় শিল্পকে ধ্বংস করে। আমরা কোনো অপেশাদার সিদ্ধান্তের কাছে আমাদের পরিশ্রম, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ তুলে দেবো না।

এক এজেন্সির সঙ্গে অন্য এজেন্সির ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং জেল-জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব সবকিছুই অযৌক্তিক, অবাস্তব ও ব্যবসাবান্ধব নয়, বাংলাদেশের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাত ইতোমধ্যেই কঠিন সময় অতিক্রম করছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন আইন দিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার মতো ধারা প্রণয়ন করা হলে লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। সরকার যদি এই খাতের উন্নয়ন চায়, তবে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এমন আইন প্রণয়ন করা চলবে না। জেল ও জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করে পূর্বের বিধান বহাল রাখতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনে হয়রানি ও প্রশাসনিক চাপ না বাড়ে। নিরপরাধ কেউ যেন শাস্তি ভোগ না করে তা নিশ্চিত করা।

দেশের ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে ব্যবসাবান্ধব ও ন্যায্য আইন প্রণয়ন করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন প্রয়োজনে আটাব, বায়রা, হাব ও টুয়াবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নীতিমালা বাতিলের দাবি জানান। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন প্রফেসর রফিকুল ইসলাম।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি