image
ডিমলা (নীলফামারী) : হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আনসার ক্যাম্প -সংবাদ

ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে নাশকতা

দুই মামলায় আসামি ৭০০, লুট হওয়া অস্ত্র ও মালামাল মেলেনি

শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, ডিমলা (নীলফামারী)

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা নদী পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন হামলার পাঁচ দিন পার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রেশন, পোশাকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মালামাল। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেও এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই আনসার ক্যাম্পে সংঘটিত এই সুপরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও রাষ্ট্রবিরোধী হামলা দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

দুই দিন ধরে চলা তা-বের পর বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্যের সহায়তায় জলঢাকা ও ডিমলা থানার পুলিশ আনসার ক্যাম্পটি পুনরুদ্ধার করে। তবে ক্যাম্প পুনরুদ্ধার হলেও সেখানে পাওয়া গেছে কেবল ধ্বংসস্তূপ।

এ ঘটনায় জলঢাকা থানায় গত ২ জানুয়ারি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ৪১ জন এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ৬৫০ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার বিকেল থেকে বুড়ি তিস্তা নদীসংলগ্ন আনসার ক্যাম্প এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার দিকে আলীম, জাহেদুল ও এমদাদুল হক নামের তিন ব্যক্তি প্রকাশ্যে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা আবারও ক্যাম্পে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে পুরো ক্যাম্প দখলে নেয়।

হামলাকারীরা টিনশেড ও পাকা স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। জানালা-দরজা, জেনারেটর, অফিস সরঞ্জামসহ সব সরকারি মালামাল লুট করা হয়। নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত সাতটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেয়া হয়। প্রাথমিক হিসাবে সরকারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলোÑ আনসার বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই, যা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে একাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত হন আনসার সদস্য, সাংবাদিক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ১০ জন।

আহত আনসার সদস্য মো. এনামুল হক বলেন, আমাদের থাকার কক্ষ, অফিস, আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। রেশন, পোশাক ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহৃত গুলি ছিনতাই মানে দেশের নিরাপত্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা।

জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া, পিভিএম বলেন, ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই হয়েছে। এখনও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, নাশকতার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। খুব শিগগিরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বড় প্রশ্ন হলো, পুনরুদ্ধার হওয়া আনসার ক্যাম্পটি এখন ধ্বংসের নীরব সাক্ষী। এই ঘটনা শুধু একটি ক্যাম্প দখলের নয়Ñ এটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» রাণীশংকৈলে পুকুর থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

» আত্রাইয়ে কবিরাজের সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

» খালেদা জিয়ার জানাজায় অসুস্থ হয়ে পড়া যশোরে যুবকের মৃত্যু

সম্প্রতি