image
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : বাহাদুরাবাদের মদনের চর এলাকায় খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন স্থানীয়রা -সংবাদ

শীতে কাঁপছে দেওয়ানগঞ্জ

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সূর্যের দেখাই মিলছে না দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। শিরশিরে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেওয়ানগঞ্জবাসী বলছে, গত চার দশকে এমন কনকনে শীত দেখেননি। দেওয়ানগঞ্জ জুড়ে রাতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। সকাল বারোটা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে পরিবেশ। দুপুরে সূর্যের উঁকিঝুঁকি লক্ষ্য করা গেলেও সূর্যের দেখা পাওয়া যায় না। ছয়-সাত দিন পর হঠাৎ একদিক দুপুরে কয়েক ঘণ্টার জন্য সূর্যেও দেখা পাওয়া যায়। ফের সপ্তাহজুড়ে একই অবস্থা। চলতি শৈত্যপ্রবাহে দেওয়ানগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কনকনে শীতে শ্রমজীবী মানুষ ও প্রাণিকুলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মোটা জ্যাকেট, চাদর, মাফলারে নিজেকে ঢেকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায় স্থানীয়দের। বয়স্করা ঘরকুনো হয়ে আছেন। ফসল উৎপাদনের জন্য বাধ্য হয়েই কৃষকেরা শীতকে সঙ্গে করে মাঠে নেমে পড়ছেন। জেলারাও নদনদী, খাল-বিল, পুকুরে নামছেন। অন্যদিকে গোয়ালেরা গবাদি পশুর গো-খাদ্য জোগাতে হিমশিম খেয়ে কৃত্রিম খাদ্য খাওয়াচ্ছেন। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে গ্রামের মানুষ কাঠের লাকড়ি, খড় জ্বালিয়ে আগুনের কু-লী তৈরি করে উষ্ণতা নিয়ে থাকছেন। গোয়ালেরা গবাদি পশুকে শীত থেকে রক্ষা করতে গোয়াল ঘরে দিন রাত আগুনের কু-লী জ্বালিয়ে রাখছেন।

উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা এলাকার একজন জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান মিজান, সানন্দবাড়ী এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রশীদ আকন্দ, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের মো. উজ্জ¦ল মিয়া, পৌর বাসিন্দা গৌতম দাস, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ অফিসার মো. আনোয়ার হোসেনসহ অনেকের ভাষ্য, এমন কনকনে শীত পড়েছে যে, ঘন কুয়াশার কারণে এক ফুট দূরে কি আছে দেখা যায় না। সন্ধ্যা হলেই বাজার ঘাট সুনসান হয়ে যায়। রেলস্টেশন, নৌকা ঘাট, বাস টার্মিনালসহ জনসংযোগের জায়গাগুলোতেও লোকজনের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। প্রবীণ দেওয়ানগঞ্জবাসীরা বলছেন, গত চার দশকে এমন তীব্র শীত দেখেনি দেওয়ানগঞ্জবাসী।

সম্প্রতি