কর্মস্পৃহা আর ব্যতিক্রম নেতৃত্বের গুণাবলি থাকলে যেকোনো পরিবেশ পাল্টানো সম্ভব। এমনই ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। বলতে গেলে দুই বছর আগেও বিদ্যালয়টি উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। অথচ প্রতিষ্ঠাকালীন ছিল তার জৌলুস। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই বিদ্যাপীঠকে মডেল হিসাবে বিবেচনা করতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য লুপ্ত হতে চলেছিল। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পেশাদায়িত্বের অভাবে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে মাত্র ১৬ মাসে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়টি।
কথা হয় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস ঠিকভাবে হতো না। ফলে নতুন শিক্ষার্থী আসতে চাইতো না। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক সংকট ছিলো চরমে। অভিজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষকও ছিল না। এজন্য শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হতো। অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে বিজ্ঞান শাখা কোনোরকমে ঢিমেতালে চলত। বর্তমানে সেই শিক্ষক সকংট পুরোপুরি কেটে গেছে।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে গণিত, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও ইসলাম ধর্ম শিক্ষার শিক্ষক যোগদান করায় পাঠদানে কোনো ধরনের আর সংকট নেই।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দেয়া তথ্য মতে, স্কুলের বেদখল হয়ে যাওয়া দেড় কোটি টাকা মূল্যের এক একর জমি উদ্ধার হয়েছে তার নেতৃত্বে। সেই জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ফলজ ও বনজ বাগান।
গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পান। এরপর পরিকল্পনা তৈরি করে তিনি কাজ শুরু করেন। তার মতে যে সময়ে তিনি দায়িত্ব নেন সেই সময়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০০-এর একটু বেশি। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০ পেরিয়ে যেতে বসেছে। স্থানীয় মাদকসেবীদের আখড়া ছিল এক সময় বিদ্যালয় চত্বর। প্রশাসন ও সুধীজনদের সহযোগিতায় মাদক আখড়া নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছেন। স্কুলের সমস্ত কার্যক্রম ডিজিলাইজড করা হয়েছে। সৃজন করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদ। দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার ফলাফলের মান ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছিল। তার মতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, চারজন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে। এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে ঊর্ধ্বতন মহলে জোরসে চিঠি চালাচালি হচ্ছে।