পটুয়াখালী পৌর সভার কলাতলা এলাকায় ক্রিকেট ব্যাট ও রড দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে খন্দকার নাহিদ (২৫) নামে এক টাইলস মিস্ত্রিকে। নাহিদের ছোট ভাই খন্দকার ফাহিমের (২১) সঙ্গে বিরোধের জেরে এলাকার কয়েকজন কিশোর এ হত্যাকান্ড ঘটায় বলে নিহতের পরিবারের দাবি। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় মা মোসা. নাসরিন আক্তার সদর থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ এই হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। গ্রেপ্তাররা হচ্ছে মো. মাহিন (২৩), মো. নাহিদ (২৩), মো. তুষার আহমেদ হৃদয় ছোটন (২২) ও সাইফুল ইসলাম হীরা (২৩)।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, নিহত খন্দকার নাহিদের ছোট ভাই খন্দকার ফাহিম ঢাকায় ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রায় দুই মাস আগে তার একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়–য়া পটুয়াখালী জেলা শহরের বন্ধু মো. মাহিনের সঙ্গে বিরোধ হয়। এ বিরোধের জেরে মাহিন এর বন্ধু ইমনের সঙ্গে গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে দুই ভাইয়ের বাগবিতন্ড হয়। পরবর্তীতে ওই রাতে ইমন, ফাহিমকে ম্যাসেঞ্জারে কল করে বাসার সামনে বের হতে বললে দুই ভাই বাসা থেকে বের হয়। এ সময় ইমন তার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের নিয়ে দুই ভাইকে মারধর করলে স্থানীয় লোকজন তাদের ছাড়িয়ে দেন। ৩১ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তি নাহিদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করে কোথায় আছে জানতে চান। নাহিদ তার কর্মস্থল কলাতলা এলাকায় হোয়াইট হাউজ বিল্ডিংয়ে টাইলস এর কাজ করছে বলে জানায়, পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বিকেল ৫টার পরে নিহত নাহিদের কর্মস্থল হোয়াইট হাউজ বিল্ডিংয়ের নিচে গিয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়ায়। এ সময় নাহিদ সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা নাহিদকে এলোপাথাড়ি মারধর করতে শুরু করে। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত মাহিন তার হাতে থাকা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে এবং সঙ্গে থাকা অপর তরুন বন্ধুরা ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে পিটিয়ে নাহিদের মাথা ও শরিরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নাহিদের মা নাসরিন আক্তার ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। নাহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়া হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মা নাসরিন বেগম পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করলে রাতেই মামলার প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, নিহত নাহিদের মা পটুয়াখালী সদর থানায় ১০ থেকে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আমরা চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।