কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ এলাকার ২৬ একর আয়তনের একটি চিংড়িঘের দখলে নিতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এরই জেরে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ২০/২৫ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্র হামলা তা-ব চালিয়ে মধ্যম বুড়িপুকুর এলাকার বাসিন্দা মৃত ছৈয়দ আলমের মালিকানাধীন বৈধ ঘেরে ব্যাপক লুটপাট করেছে। এ সময় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে ঘেরের খামারঘরটি।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে চকরিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে পৈত্রিক মালিকানাধীন বৈধ চিংড়িঘেরে হামলা লুটপাটের ঘটনায় বিস্তারিত তুলে ধরেছেন চিংড়ি চাষি মোহাম্মদ আলী। এ সময় সাংবাদিক সম্মেলনে তার অন্য পাঁচ ভাই মোহাম্মদ হোসেন, আক্তার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, নুরুল কাদের ও আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
হামলা তা-বের ঘটনায় বুড়িপুকুর এলাকার আব্বাছ আহমদের ছেলে আবুল কালাম, সহযোগী আবুল হাসেম, কবির হোছন, নুরুল আবছার, মাহামুদুল করিম, নাছির উদ্দিন, আবদুর রহমান, আবু ছালাম ও জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র জড়িত। ঘটনার রাতে তাদেরকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন চিংড়ি চাষি মোহাম্মদ আলী।
সাংবাদিক সম্মেলনে চিংড়ি চাষি মোহাম্মদ আলী বলেন, চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ মৌজার ২৬ একর আয়তনের চিংড়িজমি আমার বাবা ছৈয়দ আলমের নামীয়। ৪০১৪ নম্বর এসটি মামলা মুলে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নীতিমালার আলোকে ঘেরটির মালিকানা পেয়েছেন। সেই থেকে আমরা ছয় ভাই মিলে ঘেরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।
মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকমাস ধরে সাবেক এমপি জাফরের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ও নানা অপকর্মের হোতা আবুল কালামের নেতৃত্বে অভিযুক্ত চক্রের সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে আমার বাবার বৈধ চিংড়িঘেরটি জবরদখলের জন্য নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।
এ অবস্থায় সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ২০-২৫ জনের একটি অস্ত্রধারী দল হামলা তা-ব চালিয়ে ঘের থেকে মাছ জাল ও ছাগলসহ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে ঘেরের খামার ঘরটি।
চিংড়ি চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, ঘেরে হামলা তান্ডবের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে থানার ওসির নির্দেশে এসআই আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম রাতে চিংড়িঘেরে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে চিংড়ি চাষি মোহাম্মদ আলী ও তার অন্য পাঁচ ভাই পৈতৃক মালিকানাধীন বৈধ চিংড়িঘেরটি সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা করতে এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অর্থ-বাণিজ্য: কাঁচামাল সংকটে দেশি পাটকল, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা