image
দশমিনা (পটুয়াখালী): উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা বারো মাসই আদা চাষে ব্যাপক ফলন পাচ্ছে -সংবাদ

দশমিনায় মসলা চাষে বদলে গেছে গ্রামের নাম

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
সংবাদদাতা, দশমিনা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বস্তায় আদা চাষ করে সাফলতা অর্জন করায় কৃষকদের মাঝে বারো মাসই আদা চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কিষানীর মধ্যে চারা প্রদান করার পর বস্তায় আদার ফলন ভালো হওয়ায় তাদের মাঝে এই পদ্ধতি চাষের আগ্রহ বেড়ে গেছে। উপজেলায় আদা শুধু মসলা নয়, আদা এখন অর্থকরী ফসল হিসাবে কৃষকের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ভবিষ্যতে মসলা গ্রাম হিসাবে পরিচিতি লাভ করবে।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কৃষক-কিষানীদের মাঝে আগ্রহ বাড়াতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু করা হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাজারে চাহিদার কথা বিবেচনা করে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি, উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে বস্তা পদ্ধতিতে অতি সহজেই আদা চাষ করার কৌশল শিখিয়ে দেয়া হয়। উপজেলার হাট-বাজারে আদার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা আদা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তা কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়। উপজেলার অনাবাদি জমি, বসতঘরের পরিত্যক্ত জমি ও ছায়াযুক্ত পতিত জমিতে ৩ হাজার ২০০ বস্তায় আদার চাষ করা হয়। কৃষি বিভাগের আশা আগামী বছর এই পদ্ধতিতে উপজেলায় ব্যাপক হারে আদার চাষ বাড়বে।

উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের কৃষক শাহ আলম জোমাদ্দার বলেন, বস্তায় আদা চাষ করা খুবই সহজ। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে যেকোনো কৃষক এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে পারে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা কৃষক কাজী আনিছুর রহমান বলেন, আমার খামারে বস্তায় আদার চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস আধুনিক উপায়ে আদা চাষে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা করছেন। সাধারণত উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আদার চাষ তেমন করা হয় না। বর্ষাকালে জমিতে পানি থাকায় আদা চাষ করা সম্ভব নয়। ফলে বারো মাসেই যাতে আদা চাষ করা যায় সেই কৌশল ও প্রশিক্ষণ কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সহযোগিতা প্রদান করছে।

উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষি উদ্যোক্তা বাজারে চাহিদা ও দামের কথা বিবেচনা করে বসতঘরের পরিত্যক্ত জমি, অনাবাদি ও পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করছে। কৃষকরা জানায়, আগে জমিতে আদা চাষ করলে ভালো ফলন হতো না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাইয়ের কারণে আদা নষ্ট হয়ে যেত। ফলে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হতো। বর্তমানে বস্তায় আদা চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে খরচ কম হবে। উপজেলার অন্যান্য কৃষক এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাফর আহমেদ বলেন, এই পদ্ধতিতে উপজেলার অনেক কৃষক আদা চাষ করছে। বস্তায় আদা চাষ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ২০০ বস্তায় আদার চাষ করা হয়। উপজেলার বাজারে আদার চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা আদা চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠবে। উপজেলার অনাবাদি, পরিত্যক্ত ও পতিত জমি খালি না রেখে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। উপজেলায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়ে আমূল পরিবর্তন আনাসহ নব দিগন্তের সূচনা হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» আত্রাইয়ে ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপÍার

সম্প্রতি