image
সাপাহার (নওগাঁ): ঘন কুয়াশায় সূর্যের আলো না থাকায় সড়কে লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয় -সংবাদ

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, শীতবস্ত্র সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ

সাপাহারে ৯ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা

শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহে নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবার, (০৩ জানুয়ারী ২০২৬) সকাল ৯টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ঢেকে আছে সাপাহারের গ্রাম, হাট-বাজার ও সড়কপথ। ভোর থেকে দুপুর গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালকেরা। কাজের সন্ধানে বেরিয়েও অনেকে ফিরছেন খালি হাতে। উপজেলার পাতাড়ী ইউনিয়নের দিনমজুর রহিম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কাজে যেতে পারছি না। শীত খুব বেশি। কাজ না করলে সংসার চলবে কীভাবে? বাচ্চাদের জন্য গরম কাপড়ও নেই। শীতের তীব্রতায় যাত্রী সংকটে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরাও। ভ্যানচালক রেজাউল করিম বলেন, গত দুদিন শীত একটু কম ছিল। আজ আবার ঠান্ডা বেড়েছে। সকাল ১০টা বাজলেও কুয়াশায় পাঁচ হাত দূরে কিছু দেখা যায় না। যাত্রীও নেই।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামলেই শীতের প্রকোপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাপাহার উপজেলার অধিকাংশ দরিদ্র পরিবার এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পায়নি। কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। ঘন কুয়াশা ও নিম্ন তাপমাত্রার কারণে আলু, সরিষা ও শীতকালীন সবজি ক্ষেতে রোগবালাইয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক জানান, ভোরের দিকে মাঠে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও সচেতনতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আগামী কয়েক দিনে শীতের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে, তাপমাত্রা কিছুটা কম হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, কিন্তু কার্যকর ও টেকসই প্রস্তুতি চোখে পড়ে না। তারা শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্ত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে দ্রুত ও পর্যাপ্ত সহায়তা না পৌঁছালে শ্রমজীবী মানুষের এই দুর্ভোগ আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উত্তরাঞ্চলের এই শৈত্যপ্রবাহে নওগাঁর সাপাহারের খেটে খাওয়া মানুষ এখন মানবিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে এই শীত অনেকের জন্য আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি