চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে দিন দিন বেড়ে গেছে চুরি ডাকাতির ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি ডাকাতি হচ্ছে।
এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার বাজার এলাকার মিলন দাশের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একই রাত ১০ থেকে ভোর ৬টার সময় উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের হাজী রহমত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
মিলন দাশের পরিবারের সদস্য ভুক্তভোগী চন্দনা দাশ ও শিশু রাজ দাশ বলেন, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ৭-৮ জনের ডাকাতদল ঘরের দরজা ও তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ১২ হাজার টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ৫-৬টি মোবাইল নিয়ে গেছে।
শাকপুরা হাজী রহমত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোমা দে জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১০ থেকে ভোর ৬টার সময় বিদ্যালয়ের ছাদে উঠে ৬টি পানির ট্যাংকের গেইট বল, সোলার প্যানেলের কন্ট্রোল বাক্স ও ইলেকট্রিক তার কেটে নিয়ে গেছে চোরের দল। এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের গ্রিল কেটে আইসিটি ল্যাব ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, চার্জার ও প্রজেক্টর নিয়ে গেছে চোরের দল। গত বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের দিঘির পাড়ে হাঁটতে গিয়ে এ বিষয়টি জানতে পারেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিত বড়ুয়া বলেন, চোরের দল গ্রিল কেটে ভবনে প্রবেশ করেছে। তারা আইসিটি কক্ষের তালা ভেঙে ৬টি ল্যাপটপ ও ১০টি চার্জার এবং ২টি প্রজেক্টর নিয়ে গেছে। এ ছাড়া আমার কক্ষে ঢুকে সমস্ত কাগজপত্র এলোমেলো করে ফেলেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার সামগ্রী চুরি হয়েছে বলে ধারণা করছি।
বিদ্যালয় পাহারায় রাতে একজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। তার চোখকে ফাঁকি দিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
একই দিন উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা এলাকার বিদগ্রাম ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরে তালা ভেঙে দানবাক্স চুরি করে নিয়ে গেছে। ও-ই রাতে শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এজলাসুর রহমানের বড় ছেলে ইব্রাহিমের ঘরের দরজা ভেঙে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল।
ইউপি সদস্য কিশোর ভঞ্জ জানান, রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে কোনো এক সময় মন্দিরের তালা ভেঙে দানবাক্স চুরি করা হয়। তিনি আরও জানান, দানবাক্সটি বছরে একবার খোলা হয় এবং এতে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রতি বছরের ২৩ মাঘ মন্দিরের বাৎসরিক উৎসবে ওই টাকা ব্যয় করা হয়ে থাকে।
সপ্তাহ আগে ২৩ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভেন্টিলেটর ভেঙে অফিস কক্ষে ঢুকে একটি মনিটর, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও সিসিটিভি ক্যামেরার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) নিয়ে গেছে। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে অফিসে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন।
আমুচিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দেব জানান, মঙ্গলবার বিকেলে অফিস কার্যক্রম শেষ করে কক্ষ তালাবদ্ধ করে সবাই চলে যান। বুধবার সকালে অফিস খুলে ভেন্টিলেটর ভাঙা ও কাগজপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ২৬ নভেম্বর রাতে থানার সম্মুখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের লোহার কলাপসিবল গেট কেটে ডেক্সটপ কম্পিউটার এবং ভ্যাকসিন বিক্রির নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কার্যালয়ে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার বলেন, বুধবার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে গবাদিপশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে এসে চুরির ঘটনা দেখতে পাই। এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
একের পর এক চুরি ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এ ব্যাপরে বোয়ালখালী থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, তিনি মাত্র কয়েক দিন হলো থানায় যোগদান করেছেন। তবে তিনি সম্প্রতি এলাকায় একাধিক চুরির স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ চলমান রেখেছে। দ্রুতই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।