image

রায়পুরে তীব্র শীতে ক্ষতির মুখে পান চাষিরা

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, রায়পুর (লক্ষীপুর)

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় পান পাতায় দাগ পড়া, শিকড় পচে যাওয়া ও পাতা ঝরাসহ পান বরজে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। এতে রায়পুর উপজেলায় পানের বাজারে ধস নেমেছে। কমে গেছে পানের দাম। এতে গত এক সপ্তাহে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন পান চাষি ও পান ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চরমোহনা, চর আবাবিল, উত্তর চরবংশী ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের অধিকাংশ পরিবার পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। উপজেলার এই ৪টি ইউনিয়নে ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে পান চাষ করা হয়।

৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক পান বরজে পাতা হলদে হয়ে ঝরে পড়ছে, কোথাও আবার গাছই মরে যাচ্ছে। এতে করে চাষিরা প্রতিদিন যে পান বিক্রি করে সংসার ও ঋণের কিস্তি চালাতেন, সেই আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানের বাজারে ধস নেমে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।পান চাষিরা বলছেন, গত এক সপ্তাহের তীব্র শীতে পানের পাতায় দাগ দেখা দিয়েছে। পচে যাচ্ছে পান পাতা। এক পোয়া (৬৪ পানে এক বিড়া, ৩২ বিড়ায় এক পোয়া) বড় পানের দাম তিন হাজার টাকা থেকে কমে আটশ টাকা, মাঝারি আকারের পান প্রতি পোয়া এক হাজার ছয়শ টাকা থেকে কমে পাঁচশ টাকা এবং ছোট পান প্রতি পোয়া পাঁচশ টাকা থেকে কমে তিনশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পান চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা পান বরজ করতে খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। এবার লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদনের খরচও উঠবে না। বরজ করার সময় এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি। শীতে পান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিক্রি নেই বললেই চলে। এখন কিস্তি দেওয়ার সময় হলে আমরা কোথায় যাব?

আরেক চাষি রফিক উল্লাহ জানান, এক মৌসুমে লাভ করে আগের দেনা শোধের আশা ছিল। কিন্তু এবার লোকসান গুনতে হচ্ছে। সামনে কী করব, বুঝতে পারছি না।”

ব্যবসায়ীর আকবর বলেন, পান পরিবহন ও বিক্রিতে দুই দিন সময় লাগে। পান আগে থেকেই কিছুটা পচে যাওয়ায় এ সময়ের মধ্যে আরও পান পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় পানের পাতার ওপর কালো দাগ পড়ে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওই পান নামমাত্র টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পান বরজে বর্তমানে যেসব রোগ-বালাইয় সংক্রমিত হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে এ ধরনের রোগবালাই হচ্ছে।’ পান বরজের পরিচর্যা করলে এবং শীত কমে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করছেন তিনি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» আত্রাইয়ে ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপÍার

সম্প্রতি