রংপুরসহ বিভাগের ৮ জেলায় প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ চলছে, প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমছে। বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে ৫ জেলাতেই ৩ দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করার পর শনিবার, (০৩ জানুয়ারী ২০২৬) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কুড়িগ্রামের রাজারহাটসহ ৫ জেলাতেও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, সর্দি জ্বর কোল্ড ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ বালাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাদিন ৫ শিশু কোল্ড ডায়রিয়া আর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সর্দার অফিসের মমতাজ উদ্দিন।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানায়, শনিবার সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে ঠাকুরগায়ে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি , রংপুরে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি,নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ১১ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১১ দশমিক ডিগ্রি, এবং গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি, সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা খুব বেশি তফাৎ না থাকায় শীতের তীব্রতা কমছে না। শনিবার দুপুর ৩টায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ২৩ ডিগ্রি নীলফামালরি সৈয়দপুরে ২২ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ২১ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁয়ে ও লালমনিরহাটে ২২ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তা স্থায়ী থাকছে ২-৩ ঘণ্টা বেশিরভাগ জেলায় মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়াছে। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সারাদিনেই রংপুর বিভাগে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা মারাত্মক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার শীতের তীব্রতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে চলতি সপ্তাহে তাপ মাত্রা ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসার আগাম সতর্কবাতা দেয়া হয়েছে আবহাওয়া দপ্তর থেকে।
এদিকে এবার আগাম শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সহায়-সম্বল হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষদের জন্য শীত বস্ত্র ও শিশুদের গরম কাপড় দেয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে রংপুর ত্রাণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীত বস্ত্র বরাদ্দ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চাহিদাপত্র দেয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় এখনও কোনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ মিলেছে অনেক কম। ফলে শীত বস্ত্রের অভাবে সহায়-সম্বল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ তেমনভাবে করছে না বলে জানা গেছে।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ভাইরাস জ্বর, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া সর্দি জ্বর, শ্বাস কষ্টসহ বিভিন্ন রোগবালাই বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউট ডোরে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে। হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, রংপুর অঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি শিশু ওয়ার্ডে ৪ শতাধিক শিশু শীতজনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে সেখানে কোনো বেড ফাঁকা নেই। বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে ফ্লোরিং করতে হচ্ছে। প্রতিদিন রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত শিশুকে নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালের আউট ডোরে ভিড় করছে।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আখতার হোসেন জানান, শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। তিনি শিশুদের সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত গরম পোশাক পড়িয়ে রাখা, ঠাণ্ডা যেন না লাগে সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
অর্থ-বাণিজ্য: কাঁচামাল সংকটে দেশি পাটকল, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা