কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের অদূরে পৌর বাজারসংলগ্ন রেলপথের পাত ভেঙে যাওয়ায় মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন এক ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনের ওপর মাছের বাজার বসে। তার বর্জ্য ও পানিতে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিহাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে রেল লাইনের ওপর মাছের বাজার বসে। মাছের বর্জ্য রেলপাতের সঙ্গে জমা হয়ে জং ধরে যাওয়ায় ওই স্থান দুর্বল হয়ে গিয়েছিল।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকালে রেল লাইরের ওপর মাছের বাজার বসলে সেখানে আগত লোকজন রেল ভাঙা দেখতে পেয়ে দ্রুত স্টেশন মাস্টারকে জানায়। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপ-সহকারী প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা এসে তাৎক্ষণিক মেরামতের উদ্যোগ নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা কাজ করে সকাল সাড়ে ১০টায় লাইন ক্লিয়ার করেন।
‘ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার ভোর রাতের কোনো এক সময় রেলটি ভেঙেছিল। লাইন ভাঙার পর সম্ভবত আর কোনো ট্রেন যায়নি। তবে এ ধরনের লাইন ভাঙার ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা আপাতত রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সাময়িক মেরামত সম্পন্ন করেছি।
এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে এসে পৌঁছালে লাইন মেরামতের সময় পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে রাখা হয় বলে জানান স্টেশন মাস্টার ইতিয়ারা পারভিন।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিহাদ হোসেন বলেন, ‘ধারণা করা যায় শুক্রবার ভোরের কোনো এক সময় রেলটি ভেঙেছিল। পরে সম্ভবত আর কোনো ট্রেন যায়নি। তবে এ ধরনের লাইন ভাঙার ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা আপাতত রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সাময়িক মেরামত সম্পন্ন করেছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একটি অসাধু চক্রের ইন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া পৌর বাজারের দক্ষিণ পাশে রেল লাইনের ওপর প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাছ বাজার বসে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রানহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
‘অভিযোগ আছে রেল সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় মস্তান ও বাজারের ইজারাদারদের যোগসাজসে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের বিনিময়ে রেলের ওপর এই ব্যবসা চলে।’ এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার ইতিয়ারা খাতুন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে লাইনের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাজার উচ্ছেদের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’