image
সংগৃহীত

হাতিয়ায় চর দখল নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

রোববার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, হাতিয়া (নোয়াখালীর)

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলার বাদিকে থানায় এনে জোরপূর্বক আটক রেখে হত্যার ভয় দেখিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিরপরাধদের নাম দিয়ে এজাহার স্বাক্ষর করিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য্যের অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া থানার (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত ২৩ ডিসেম্বর হাতিয়ার সুখচর ইউনিয়নের জাগলার চরে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে ৬ জনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতিয়া থানায় দায়ের হওয়া পৃথক দুটি হত্যা মামলায় কোটি টাকার বিনিময়ে মামলা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তিনি মনগড়াভাবে আসামির তালিকা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পৃথকভাবে দায়ের হওয়া মামলা দুটির বাদিই এসব অভিযোগ করে জেলা প্রশাসকও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কে কপি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য ২৩ ডিসেম্বর হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের জাগলার চরে দিনভর চরের ভূমি দখল ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন বাহিনী, কোপা শামছু বাহিনী ও ফরিদ কমান্ডার বাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ফরিদ কমান্ডার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে গেলেও আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন, কোপা শামছু বাহিনীর প্রধান কোপা শামছু, কোপা শামছুর ছেলে মোবারক হোসেন শিহাব সহ ৬ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর নিহত কোপা শামছুর ভাই আবুল বাসার বাদি হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর নিহত আলাউদ্দিনের পিতা মহি উদ্দিন বাদি হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একই থানায় আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার দায়েরের সময় হত্যা মামলা দুটিতেই জোরপূর্বক আসামি পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ মামলা দুটির বাদি আবুল বাসার ও মহিউদ্দিন।

নিহত আলাউদ্দিনের পিতা মহি উদ্দিনের অভিযোগ, ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে হত্যার ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা জোরপূর্বক তাকে থানায় ওসির কক্ষের পাশের একটি কক্ষে আটক করে রাখেন। এসময় তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে লিখিত একটি এজাহারে স্বাক্ষর দিতে বললে তিনি অপরাগতা জানান। স্বাক্ষর না দেয়ায় তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কক্ষ বাহিরে থেকে তালা লাগিয়ে আটক রাখা হয় ও স্বাক্ষর না করলে তাকেও হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় ওসি। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে তিনি এজাহারে স্বাক্ষর করেন বলেও অভিযোগ করেন। এজাহারে অভিযুক্ত আসামিদের অনেকেই নিরপরাধ এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজাহারে ওসি তার ইচ্ছে মতো নাম বাসইছে। আমি অনেক আসামির নাম নিজেই নতুন শুনতেছি।

অন্য মামলার বাদি নিহত কোপা শামছুর ভাই আবুল বাসার বলেন, আমি মামলার বাদি হয়ে এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করেছি থানার লোকজন সেসব নাম দেখে সেই এজাহার পরিবর্তন করে নতুন করে এজাহার লিখে আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। বর্তমান এজাহারে থাকা আসামিদের অনেককেই আমি নিজেও চিনি না। আমার ভাইকে হারিয়েছি। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই। তবে, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার না করে যদি নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হয় এটা মেনে নেবো না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, জাগলার চরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে।

দুটি মামলার বাদি এখন আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করছেন এগুলো শতভাগ মিথ্যা। তারা কেন, কীভাবে এগুলো বলছে তার কোনোকিছুই আমি জানি না। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্যও করতে চাইনা।

আমি যেটা বলতে চাই, তারা স্বাধীনভাবে তাদের নিজের ইচ্ছেতে তারা তাদের এজাহার দিয়েছে। এখন তারা কেন, কি কারণে এগুলো বলছে তা আমি জানি না। থানায় আটক করে মামলার বাদীকে ‘হত্যার ভয় দেখিয়ে এজাহারে স্বাক্ষর’-এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানার পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ওপর কোন প্রেশার ছিল না। আমরা তাদের বলেছি তারা যেন নিরপেক্ষভাবে নিজেদের ইচ্ছায় এজাহার দেয়। থানার বাহিরে এই ঘটনা সংক্রান্ত কি আছে না আছে তা আমি জানিনা। জানতে চাইলে নোয়াখালী পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি মৌখিক অভিযোগ শুনেছি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগের একটি অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি