শাহজাদপুর উপজেলার মাঠে মাঠে এখন সরিষার হলুদের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ ছেয়ে গেছে হলুদে। সরিষার আবাদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মৌসুমী মৌমাছিদের তৎপরতা। পাশাপাশি সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে মৌচাষিরা। সরিষা ক্ষেতের পাশে পোষা মৌমাছি দিয়ে শত শত বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন তারা। ওই সব বাক্স থেকে পোষা মৌমাছিগুলো উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষার হলুদ ফুলে। সরিষা ক্ষেতের পাশে খোলা জায়গায় চাক ভরা বাক্স ফেলে রাখেন মৌচাষিরা। এসব মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১৭ হাজার সেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছ। এর মধ্যে প্রায় ১৩০০ হেক্টর জমিতে বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা। উপজেলার কায়েমপুর, জুগ্নীদহ, পারকোলা, টেটিয়ারকান্দা, করশালিকা, চরধুনাইলসহ বিভিন্ন সরিষা ক্ষেত ঘুরে এবং মৌচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর শাহজাদপুর সহ পাবনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও জামালপুর থেকে ২২ জন মৌচাষি সরিষা ক্ষেতের পাশে বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সরিষা ক্ষেতের পাশে সারি সারি বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন তারা। উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সরিষা ক্ষেতে সাতক্ষীরা থেকে আসা মৌচাষি নিহার রঞ্জন বিশ্বাস মধু সংগ্রহের জন্য ১০০টি বাক্স বসিয়েছেন। অন্যদিকে একই ইউনিয়নে সাতক্ষীরার অপর মৌচাষি শাহিন হোসেন মধু সংগ্রহে ১৭০টি বাক্স বসিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মধু সংগ্রহের জন্য স্টিল ও কাঠ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাক্স। বাক্সের ভেতরে কাঠের তৈরি সাতটি ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে এক ধরনের সিট। বাক্সগুলো কালো পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো থাকে। সরিষা ক্ষেতের পাশে বাক্সগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়।? ওই বাক্সেগুলোতে রাখা হয় রানী মৌমাছি। এসব বাক্সে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি ভীড় জমায়। এভাবেই সরিষা ফুল থেকে বিশেষভাবে তৈরি মৌবাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে মৌচাষিরা। তারা জানান ৮ থেকে ১০ দিন পর পর বাক্স থেকে মধু আহরণ করা হয়।
মৌচাষী নিহার বিশ্বাস জানান তিনি ডিসেম্বর মাসে দুই ধাপে ৩৬০ কেজি (৯ মন) মধু সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে শাহিন হোসেন বলেন, তিনি প্রথম ধাপে ২৫০ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। করশালিকা গ্রামের সরিষা ক্ষেতে ৩০০টি বাক্স বসিয়ে গত ১৫ দিনে মাত্র ১২০ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন মৌচাষী হোসেন আলী। তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় মধু সংগ্রহে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার টেটিয়ারকান্দা গ্রামের সরিষা ক্ষেতের পাশে ১০০ বাক্স বসানো জামালপুর থেকে আগত মৌচাষী নুরুল ইসলাম জানালেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিনি ১৫ দিন পর ১৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। মৌচাষিরা জানান, চলতি বছর পাইকারি প্রতি মন মধু ১২ হাজার টাকা থেকে ১৪ হাজার টাকা দামের বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ।
মৌচাষীরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা মধু সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে তাদের মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।
এ ব্যাপারে রোববার,(০৪ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ২০২৫- ২৬ অর্থবছরে শাহজাদপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এসব জমির মধ্যে ১২০৫ হেক্টর সরিষা ক্ষেতে ২২ জন মৌচাষি মৌবাক্স স্থাপন করে মধু আহরন করছেন। চলতি বছর উপজেলায় মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ মেট্রিক টন। আবওহাওয়া অনুকূলে থাকলে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই মধু আহরনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মৌয়ালদের সার্বক্ষণিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন।
অর্থ-বাণিজ্য: কাঁচামাল সংকটে দেশি পাটকল, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা