কলারোয়ায় অবৈধ মাটিবাহী ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত সুরাইয়া খাতুন (১৭) উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামের সরদার পাড়ার অজিয়ার রহমানের কন্যা। সে কলারোয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে পৌরসদরের বেত্রবতী হাইস্কুলের সামনে কলারোয়া-সরসকাটি সড়কে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপুরে সরকারি কলেজের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভ করে ইউএনও এবং থানার ওসিকে ৩ দফা দাবি জানিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়- সকালে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে ইজিবাইকযোগে সুরাইয়া খাতুন কলারোয়ায় রওনা হয়। সকাল ৮টার দিকে পৌরসদরের বেত্রবতী হাইস্কুলের সামনে পৌঁছালে ইজিবাইকের সামনে থাকা দ্রুতগতির অবৈধ মাটিবাহী একটি ট্রলি হঠাৎ কোন সিগনাল ছাড়াই ডানে ঘুরে বেত্রবতী স্কুলের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে যায়। সেসময় পেছনে থাকা দ্রুতগতির ইজিবাইকও ডান দিক দিয়ে ট্রলিকে ওভারটেক করার সময় মাটিবাহী ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইককে সজোরে ধাক্কা দেয়। তখন কলেজছাত্রী সুরাইয়া ছিটকে ট্রলির নিচে পড়ে চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া হাসপাতাল ও পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সে সময় ঘাতক মাটিবাহী ট্রলি চালক পালিয়ে যায়।
কলারোয়া থানার এইচএম শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনী পদক্ষেপ অনুযায়ী লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় দুপুরে কলারোয়া সরকারি কলেজের বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেন। পরে তারা থানার ওসি ও ইউএনওকে ঘাতক চালককে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, অবিলম্বে অবৈধ মাটিবাহী ডাম্পার-ট্রলি চলাচল বন্ধ ও কলারোয়া হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা দ্রুতকরণের ৩ দফা জানিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। ইউএনও জেবুন নাহার ও ওসি এইচএম শাহীন শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
অর্থ-বাণিজ্য: কাঁচামাল সংকটে দেশি পাটকল, রপ্তানি বন্ধ চান ব্যবসায়ীরা