image
সংগৃহীত

মহেশপুর সীমান্তে এক দশকে ১০ জন নিহত

প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে থামছে না প্রাণহানি। সীমান্তের বড় একটি অংশে এখনও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় গত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মহেশপুর সীমান্তের প্রায় ৬৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এই উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়েই ঘটছে অধিকাংশ প্রাণঘাতী ঘটনা।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে যাদবপুর ও শ্যামকুড় সীমান্তে ২ জন নিহত হন। ২০১৭ সালে স্বরূপপুর সীমান্তে ১ জন নিহত ও ১ জন আহত হন। ২০১৯ সালে বাঘাডাঙ্গা ও মাইলবাড়ীয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরও ২ জন প্রাণ হারান। ২০২০ সালে খোসালপুর সীমান্তে ১ জন আহত হন। ২০২৩ সালে কাজীরবেড় ও নেপা সীমান্ত এলাকায় ২ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে শ্যামকুড় ও স্বরূপপুর সীমান্তে আবারও ২ জন নিহত ও ১ জন আহত হন। স্থানীয়দের ক্ষোভ, সীমান্তের বড় অংশে কাঁটাতার না থাকায় সাধারণ মানুষ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে, আর সেই সুযোগে বিএসএফ সদস্যরা সন্দেহের বশে গুলি চালাচ্ছে। এতে বারবার ঝরে যাচ্ছে নিরীহ প্রাণ। এ বিষয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম, পিএসসি বলেন, সীমান্ত হত্যা রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন ৭৮ কিলোমিটারের সীমান্তে যখন ১২ কিলোমিটার আজও উন্মুক্ত, তখন এসব মৃত্যুর দায় কে নেবে? দ্রুত উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার স্থাপন ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছাড়া মহেশপুর সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ হবে না বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» পটুয়াখালীতে বাবার ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যা

সম্প্রতি