image
গাইবান্ধা : শীত থেকে বাঁচতে আগুন জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছেন স্থানীয়রা -সংবাদ

উত্তরাঞ্চলে ফের হাড় কাঁপানো শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

রোববার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

উত্তরাঞ্চলে আবারও তীব্র শীতের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধাসহ পুরো অঞ্চলের জনজীবন কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত শনিবার সকাল থেকে গাইবান্ধা শহর ও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। দিনের বেলাতেও আলো স্বল্পতায় সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে, ফলে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীতের তীব্রতায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষের আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অন্যদিকে কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ায় বোরো ধানের বীজতলা এবং রবি ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে গাইবান্ধা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

আবহাওয়াবিদরা জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে চলমান শীতে সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ সীমিত থাকায় শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মানবিক উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালাম জানান, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় শীতার্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ৬০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

নোয়াখালীতে হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন স্থবির

প্রতিনিধি, বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) থেকে জানান, হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে নোয়াখালীবাসী। গত দুই দিনে দেখা মিলেনি সুর্যের। এতে করে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। ঠাণ্ডা আর হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের জনজীবন। গত শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ। শীতের কারণে কষ্ট বেড়েছে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষদের। ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে মানুষজন তেমন ঘর থেকে বের হননি। যারা বের হয়েছেন, তারা শীতের কাপড়ে নাক-মুখ বেঁধে ছুটে চলছেন গন্তব্যে। প্রধান সড়কে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরের গাড়িও ঠিকভাবে চোখে পড়ছে না। গত কয়েকদিন থেকে রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে ঘন কুয়াশা। বিকেল থেকেই শুরু হয় ঘন কুয়াশার দাপট, যা পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে কাজের সন্ধানে আসা হত-দরিদ্র আবদুল মালেক বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কাজ না করলেও চলে না। তবুও এই শীতে কাজ করতে বের হয়েছি। কাজ করলে ঠাণ্ডায় হাত-পা যন্ত্রণা করে, শরীর কামড়ায়। অন্যদিকে, নোয়াখালীর চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকায় এখনো সরকারি ও বেসরকারি কোনো শীতবস্ত্র সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আগের দিনের তুলনায় শনিবারের কনকনে ঠাণ্ডায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে আরো কয়েকগুণ। শীত নিবারণের জন্য অনেককে খড়কুটো ও জ্বালানি পুড়িয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীতে গত শনিবার সকাল ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ। এটিই জেলায় এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা একই রকম থাকতে পারে। জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আট হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকেও প্রায় ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে কম্বল কিনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা শুরু হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি