মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে ২৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।
ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলাকে নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুই জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন — জনতা দলের প্রার্থী মো. শাহজাহান খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারী। শাহজাহান খানের ক্ষেত্রে দলের ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়া’ এবং আব্দুল আলী বেপারীর ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় তথ্য ‘সঠিক না থাকায়’ তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুসাইন, জেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মো. হেদায়েতুল্লাহ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মনোনীত প্রার্থী দিলীপ কুমার দাশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম।
সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-২ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান এবং জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক মোল্লা।
এস এম আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপি হওয়ায় এবং অপর দুই প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় তথ্য সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এ আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।
মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে চার জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান আতা (স্বতন্ত্র), আমেরিকান প্রবাসী রফিকুল ইসলাম খান(স্বতন্ত্র), এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. ফারুক হোসেন (স্বতন্ত্র)।
এবি পার্টির প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় এবং অন্য তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় তথ্য সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম, গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ জাসদের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নূর, জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী সামসুদ্দিন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ‘যাচাই-বাছাই শেষে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর বাতিল করা হয়েছে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি ‘