প্রকৃতির লীলাক্রমে হেমন্তের বিদায়ে শীতের আগমনে মৌসুমের এ সময়টা মানুষের আনন্দভ্রমণ ও চিত্তবিনোদনের জন্য খুবই উপযোগী। এ সময় সপরিবারে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্ক রিসোর্টে শুরু হয় ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা।
ভালুকা উপজেলার সবুজ অরণ্যঘেরা টেক টিলা আর জীববৈচিত্র্যে ভরপুর হবিরবাড়ী গ্রামে মনোমুগ্ধকর পরিবেশে গ্রীণ অরণ্য পার্ক এখন জমে উঠতে শুরু করেছে দর্শনার্থীদের পদচারনায়। অবকাশ ও চিত্তবিনোদনের জন্য প্রতিদিন এলাকার ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন এ পার্কটিতে। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পিকনিক পার্টি ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। এছাড়া অন্যান্য দিন দর্শনার্থীদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো।
ভালুকার হবিরবাড়ী ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক হতে পাকা রাস্তা ধরে শাল-গজার বনের ভেতর দিয়ে দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে পৌঁছালেই নজরে আসবে পার্কের প্রধান ফটকের মাথায় দাঁত বের করে মুখ বাড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির ড্রাগন। উঁচু নিচু টেক টিলায় দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে পরিচিত হবেন নানা বিনোদনের সাথে। রাস্তার দুই পাশ সাজানো হয়েছে নানা রকম দেশী বিদেশি ফল ফুলের গাছে। ঝুলন্ত ব্রীজ পাড় হলেই দ্বীপাকৃতির অবকাশ কেন্দ্র যেখানে রয়েছে পাশাপাশি দূরত্বে লেকের ধারে মনোরম পরিবেশে সম্পুর্ণ আর্ন্তজাতিক মান সম্পন ৩ রুম বিশিষ্ট ৭/৮ টি কটেজ যার চারিদিকে বারান্দা সামনে লেকের সচ্ছ পানি আর সুইমিং পুল। লেকের ধারে রয়েছে ২০০ লোক ধারন সম্পন্ন একটি হলরুম যেখানে বিয়ে, জন্মদিনের অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানাদির সু ব্যবস্থা। শিশুদের জন্য দোলনা, মিনিরেল, ফ্লায়িং রকেট,ইলেকট্রিক ট্রেন ও খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম সহ পার্কের বিভিন্ন অংশে নির্মল পানির লেকে শোভা পাচ্ছে প্যাডেল বুট। এক পাশে ফ্লায়িং রাইডার ও সয়ংক্রিয় ওয়াটার সাওয়ার। এ ছারা হরিণ, ঘোড়া, উটপাখি, ইমু পাখি, ময়ূর, ময়না সহ বিভিন্ন পশু পাখি দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জনের খোরাক জোগাচ্ছে। লেকের ধারে উচু টিলায় স্থাপিত হয়েছে উড়ন্ত বলাকার ঝাক। পার্কের সাথেই লেকের ব্যবস্থা করা আছে যেখানে দল বেধে তিষ্নর্ত বন্য বানরের দল বিভিন্ন সময় পানি পান করে। পরন্ত বিকেলে চারিদিক থেকে ঝাকে ঝাকে সাদা বক, কানি বক ও অন্যান্য পাখীরা পার্কের গাছে বসতে শুরু করে রাত্রি যাপনের জন্য।
গ্রীণ অরণ্য পার্কের সত্বাধিকারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক হাজী শহিদুল ইসলাম জানান “ভালুকার শতাধিক শিল্প কারখানার কর্মব্যস্ত স্বল্প আয়ের লাখ লাখ শ্রমিক যারা অর্থাাভাবে বিনোদনের জন্য দুরের কোন পার্কে যেতে পারেননা এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী, সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুষ্ঠ ধারার বিনোদনের জন্য সাচ্ছন্দপুর্ণ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি বিনোদন পার্ক তৈরী করা তার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল”। তিনি জাপানের একটি পার্ক দেখে এসেছেন সেই আদলে সম্পুর্ণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জনের কথা ভেবে পার্কটির পরিবেশগত অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। দর্শনার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, টয়লেট বাথরোম সহ বিশ্রামাগার ও সব রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। বন ভোজন দলের জন্য টিলায় টিলায় আলাদা রন্ধনশালা ও খাবার পরিবেশনের সুব্যবস্থা রয়েছে। পার্কের প্রবেশ দ্বারের বাহিরে নামাজের স্থান করা হয়েছে। এক পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা আছে। এক কথায় দেশের অন্যান্য পার্কের চেয়ে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ এখানে বিরাজ করছে। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্কুল কলেজের ছেলে মেয়ে ও পরিবারের লোকজন আনন্দভ্রমণ ও পিকনিক করতে আসে এ পার্কে। সুষ্ঠুধারার চিত্তবিনোদনের জন্য কাছাকাছি একটি পার্ক এ অঞ্চলের মানুষের মনে সারা জাগিয়েছে।
শুধু চিত্তবিনোদন নয় তিনি বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে দক্ষিন হবিরবাড়ী নিজ গ্রামে মাদরাসাতু রওজাতুস সুন্নাহ আল আরাবিয়া নামে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘ দিন যাবৎ।