image

ঠাণ্ডায় স্থবির সুন্দরগঞ্জের জনজীবন

রোববার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

চলতি শীত মৌসুমো শুরুতেই ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠাণ্ডা, ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের ভাসমান পরিবারগুলো ঠাণ্ডায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

স্থবির হয়ে পড়েছে সব কার্যক্রম। ঘন কুয়াশা এবং ঠাণ্ডায় অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ীরা যথা নিয়মে কর্মস্থলে যেতে পারছে না। যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঠাণ্ডার কারণে নানা রোগব্যাধির প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ওষুধের দোকানগুলো রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলার নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে অসহনীয় ঠাণ্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের পরিমাণ একেবারেই অপ্রতুল। চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে আড়াই হাজার অসহায় শীতার্তের মাঝে। দিনমজুররা এবং চরের ছিন্নমূল পরিবারগুলো খড়-কুটো জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা নিবারণ করছে। বিশেষ করে বৃদ্ধা-বৃদ্ধা, শিশু ও প্রসূতি মা’রা নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

কাপাসিয়ার ইউনিয়নের কালাইসোতা চরের ফুলজান নেছা বলেন, এ বারের ঠাণ্ডা বেশি। আগে তো চেয়ারম্যান নেম্বররা কম্বব দিছিল। এবারে এলাও তো কেউ আইসে নাই। হ্যামার ঘরে খুব কষ্ট হইছে। বেলকা চরের জয়ন্ত সরকার বলেন ঠাণ্ডার কারণে মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে খড়-কুটো জ্বালিয়ে হাত-পা গরম করতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে কাজকর্ম ছেড়ে দিতে হবে। সরকারি ভাবে এখন কোনো প্রকার শীতবস্ত্র পাইনি।

হরিপুর ডাঙ্গার চরের সোলেমান মিয়া বলেন, গত ১০দিন থাকি ঠাণ্ডায় চরের মানুষের অনেক কষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বয়বৃদ্ধা, শিশু ও গর্ভবতী মায়ের নিদারুণ কষ্ট হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার শীতবস্ত্র পাই নাই। ঠাণ্ডার কারণে কাজকর্ম করা যাচ্ছে না। অনেকে বাড়ির মধ্যে খড়-কুটো জ্বালিয়ে বসবাস করছে।

চন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী মোস্তফা মাসুম বলেন, সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১৫৬টি কম্বল পাওয়া গেছে। তার ইউনিয়নে ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে ২ হাজার। শীতার্ত মানুষের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের। শীত যেভাবে জেঁকে বসেছে, তাতে করে শীতবস্ত্রের চাহিদা মেটাতে না পারলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত চাহিদা মোতাবেক শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন গতকাল থেকে ফের ঠাণ্ডা দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে চলতি বছর আড়াই হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হয়েছে। তবে শীতার্ত মানুষের চেয়ে শীতবস্ত্রের পরিমাণ অনেক কম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মো. আতিয়ার রহমান সোহাগ বলেন, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে হাঁপানি, অ্যাজমা, নিমোনিয়া, পেটের পীড়া, স্বর্দি কাশিসহ নানাবিধ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসের তুলনায় রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক হারে বেড়ে গেছে। মূলত ঠাণ্ডার কারণে এসব রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু, ও প্রসূতি মা’রা বেশি আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি