ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় ঝুমা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর পর শনিবার দুপুরে গৃহবধূর মরদেহ নেয়া হয় ভৈরব থানায়। থানায় লাশ রেখেই বিকেলে ৪ লাখে টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে জানান রোগীর স্বজন রাশেদ মিয়া।
রোগীর স্বজনরা জানান, ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝুমা বেগম নামে একজন গৃহবধূর সিজার অপারেশন করেন ডা. হরিপদ দেবনাথ। ওই রোগীকে এনেস্থিসিয়া দেন ডা. রাজীব। গৃহবধূ একটি পুত্র সন্তান জন্মদেন। রাতে ১০টার দিকে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। পরদিন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তার জানান রোগীর ভুল চিকিৎসা হয়েছে, তাকে বাঁচানো অনেকটা কঠিন। শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গৃহবধূ মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত ঝুমা বেগম পৌর শহরের কালীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার কুদ্দুস মিয়ার মেয়ে ও উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এলাকার তৌফিক মিয়ার স্ত্রী।
এ বিষয়ে রোগীর চাচা রাশেদ মিয়া জানান, আমার ভাতিজিকে ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করার পর আমরা বলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অপারেশন করা জন্য। কিন্তু চিকিৎসক ডা. হরিপদ বলেন পরীক্ষা লাগবে না। বৃহস্পতিবার রাতে অপারেশন করার কয়েক ঘণ্টা পর ঝুমার অবস্থা খারাপ হয়। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা জানান রক্ত লাগবে। সারা রাতে ৮ ব্যাগ রক্ত দেয়া হলেও ঝুমার কোন উন্নতি হয়নি। পরদিন শুক্রবার সকালে চিকিৎসক জানান রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে। আমরা অস্বীকৃতি জানালে আমাদের রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাপ দেন। আমরা বলেছি আমাদের রোগীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন আমরা রোগী ঢাকায় নিবো না। চিকিৎসকের চাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ডাক্তার বলে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। বাঁচার সম্ভাবনা কম। তারপরও আমরা সঠিক চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করি। শনিবার বেলা ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমা মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরো বলেন, আমি ভৈরবের চিকিৎসককে মৃত্যুর কথা জানালে তিনি বিষয়টি আপোষ করতে বলেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার কামনা করি। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
শনিবার রাতে রাশেদ মিয়া স্বীকার করেন থানার একটু দূরে ৪ লাখ টাকায় আপোষ করা হয়েছে। ভৈরব থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত আবু তালেবের কাছে লিখিত দিলে লাশ নিয়ে যেতে বলেন। পরে লাশ নিয়ে যায়। রাতেই লাশ দাফন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ঝুমাকে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়েছিলেন ডা. হরিপদ দেবনাথ। অপারেশনের পর মা বাচ্চা অনেক ভালো ছিল। অপারেশনের পর রাতে হঠাৎ ঝুমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে আমাদের ডাক্তারগণ রক্ত দেয়াসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। শুক্রবার সকালে আবারো রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসক রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। রোগীর স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে শুনতে পাই ঝুমার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ডা. হরিপদ দেবনাথকে একাধিক বার ফোন করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, রোগীর মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পায়নি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানালে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সারাদেশ: নাটোরে নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার