image

গোবিন্দগঞ্জে অবাধে চলছে অবৈধ ইটভাটা হুমকির মুখে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য

রোববার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ইটভাটা চলমান। সরকারি আইন বিধি অমান্য করে কাদের স্বার্থে চলছে অবৈধ ইটের ভাটা। অনেক স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন আবার কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠছে ইটভাটা।

যত্রতত্র ইটভাটার কারণে তিন ফসলি জমির ও গাছের ফল নষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে কয়লার পাশপাশি জ্বালানি কাঠ পোড়ানোয় হুমকির মুখে পরেছে এলাকার পরিবেশ। এসব ইটভাটা স্থাপনে স্থানীয়দের অভিযোগ থাকলেও আইন অমান্যকরে চলছে ইটভাটার ইট পড়ানোর কার্যক্রম। দিনরাত প্রকাশ্যে ইটভাটাগুলো আবাদী জমির টপ সয়েল বা উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরি ও পড়ানোর কার্যক্রম চালালেও স্থানীয়দের অভিযোগ। অবৈধ ইট ভাটার কার্যকর ব্যাবস্থা না নেয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদারকি না থাকায় প্রতি বছরই অবৈধ ইটভাটা চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা। ইটভাটাগুলো ইট তৈরির মাটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পূর্ব অনুমতি নেয়ার বিধান থকলেও তা মানা হচ্ছে না।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলায় মাত্র ৬টি ইটভাটার লাইসেন্স থাকলেও তা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকাসহ উপজেলার ভাটার সংখ্যা প্রায় ৩৬টি। উপজেলা কাটাবাড়ী, সাপমারা, কামারদহ, নাকাই, দরবস্ত, মহিমাগঞ্জ, কোচাশহর, শিবপুর রাখালবুরুজ ইউনিয়নে এই ইটভাটাগুলির অবস্থান। এর মধ্যে মাত্র ৬টি ইটভাটা তাদের কার্যক্রম পরিচালনাার সরকারি অনুমোদন জানালেও বাকি প্রায় ৩০টি ইটিভাটার কোনো লাইসেন্স না নেই তবে তারা সরকারি আইন বিধি অমান্য করে প্রশাসনের নাকের ডগায় ইট পড়ানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব হটভাটার নেই কোন পরিবেশের ছাড়পত্র। ভাটাগুলোর ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আবাদি জমির উর্বর অংশের মাটি (টপসয়েল)।

বিভিন্ন প্রলোভনে সামান্য অর্থের বিনিময়ে কৃষকদের কাছ থেকে এই কৃষি জমির মাটি কিনে নিচ্ছেন ভাটার মালিকরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদী জমি। এছাড়াও ভাটায় অবাধে ছোট বড় গাছ গাছড়া পোড়ানোর ফলে কালো ধোঁয়া পার্শ¦বর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় অহরহ পরিবেশ দূষণসহ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও কৃষি, পরিবেশ এবং প্রকৃতি। পুনতাইড়, ফাঁসিতলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে স্কুল ও শিক্ষাপ্রষ্ঠিানের পাশেই ইটভাটা গড়ে তোলায় ভাটা এলাকা শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষের সারা বছর শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের অসুখে ভুগে থাকেন।

এ বিষয়ে ফোনে বার বার চেষ্টা করেও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে গোবিন্দগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদের কাছে উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার সঠিক সংখ্যাসহ এসব বিষয়ের জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য না জানিয়ে এরিয়ে যান। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান জানান তিনি যোগদানের পর ইটভাটা স্থাপনের নতুন করে প্রত্যায়ন দেয়া হয়নি। ইটভাটার করনে কোনো ফসলের ক্ষতি হলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খানের নেতৃত্বে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মেসার্স উৎস এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মাত্র ইটভাটায় অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) মোতাবেক মেসার্স উৎস এন্টারপ্রাইজ ইটভাটার স্বত্বাবাধিকারী আবু তালেব মন্ডলকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে। গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার মুঠোফোনে অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযানের বিষয়ে না জানিয়ে অফিসে যাওয়ার আহবান জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা মুঠোফোনে জনতে চাওয়া হলে অবৈধ পরিবেশ দূষণকারী সব ইট ভাটার ব্যাপারে ফোনে কোন কথা না বলে তার অফিসে ডাকেন। দায়িত্বশীল কর্মকতাদের তথ্য না দিয়ে এমন রহস্যজনক ভূমিকায় হতাশ গণমাধ্যমকর্মীরা।

বেসরকারি সংস্থা নিপোর নির্বাহী পরিচারক পরিবেশকর্মী আহম্মাদুল্লা বলেন. অবৈধ ইট ভাটার ব্যাপরে প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহবান জানান। সেই সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের সচেতন হতে হবে প্রকৃতি, পরিবেশ যাতে ক্ষতি না হয় এমন ফাকা অকৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন করা এবং মানুষ ও জমির ফসল, প্রাণিকুলের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি সেদিকে লক্ষ রাখা।

এ ছাড়া স্কুল আবাদি জমি অথবা জনবহুল লোকালয়ে যেসব ভাটা স্থাপন করা হয়েছে তা সরিয়ে নেয়া আহ্বান জানান এ পরিবেশপ্রেমী।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি