image
শরীয়তপুরের বাড়িতে খোকন দাসের স্বজনদের আহাজারি -সংবাদ

খোকন দাসের আয়ে চলতো পরিবার: ‘আমরা তো পথে বসে গেলাম’

শরীয়তপুরের ডামুড্যার খোকন দাসকে ছুরি মেরে ও পুড়িয়ে হত্যা

রোববার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শরীয়তপুরের ডামুড্যার খোকন দাসের পরিবার এখন দিশেহারা। ছোট ছোট তিনটি সন্তানকে নিয়ে আগামী দিনগুলো কীভাবে পারি দেবেন সেই দুশ্চিন্তাই এখন তাদের সারাক্ষণের সঙ্গী। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর রাত ১০টার দিকে কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাড়ির সামনেই খোকন দাসের শেষকৃত্য হয়।

এতে পরিবারের সদস্য ছাড়াও প্রতিবেশী-স্বজনরা অংশ নেন। সবাই তাকে চোখের জলে বিদায় দেন। খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, তার তিন মেয়ে আর এক ছেলে। তিন মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। খোকন দাস তিলই বাজারে একটি ওষুধের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করতেন। এখান থেকে আয়েই পরিবার চলতো। খোকন দাসের (৫০) স্ত্রী সীমা রানী দাস গৃহিনী। তাদের তিন ছেলে আকাশ চন্দ্র দাস (১৫), বিকাশ চন্দ্র দাস (১০) এবং আদর চন্দ্র দাস (৫)। পরেশ চন্দ্র দাস বলছিলেন, ‘একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা পথে বসে গেছি। সেই তো দোকানটা চালিয়ে কোনোরকমে সংসারটা ধরে রেখেছিল। এখন সে নাই, দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। এতগুলো মানুষ নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব। আমরা কীভাবে সামনের দিনগুলো পাড়ি দেব জানি না। ‘ছেলেকে যারা এইভাবে হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই।’

এরই মধ্যে পরেশ চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার পর কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খোকন দাসের বক্তব্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন খোকন দাস। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনদিন পর গতকাল শনিবার সকালে খোকন দাস মারা যান। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

খোকন দাসের মৃত্যুর খবর পেয়ে অনেকেই পরিবারকে সান্তনা দেয়ার জন্য তাদের বাড়িতে আসছেন। শৈশব-কৈশোরের বন্ধু, বাজারের ব্যবসায়ী সবাই তার মৃত্যুতে শোকাহত। সবাই বলছিলেন, তাদের জানা মতে খোকনের কোনো শত্রু ছিল না। এক প্রতিবেশী (৩০) বলছিলেন, ‘বোঝাই যায়, এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। ছুরিকাঘাত করার পর আবার তার শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্যই এটা করা হয়েছে।’ স্বজন-প্রতিবেশীরা জানান, তারা এই ঘটনা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চান।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি