বিগত দীর্ঘবছর ধরে বাগেরহাট পৌরসভার সব রাস্তা ও ড্রেনের নির্মাণকাজ এবং সংস্কার না হওয়ায় পৌরবাসী অতিষ্ট হয়ে এখানের জনপ্রতিনিধিদের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছিল। বিষয়টি উপলদ্ধি করে ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর বাগেরহাট পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও আবার তা বন্ধ রয়েছে। এতে করে আবারও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। ভাঙাচোরা রাস্তা, রাস্তায় গর্ত হওয়া, কাদা ও ধুলাবালির কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এসব রাস্তা এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী সচেতন পৌরবাসীরা বলছেন, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাট পৌরসভা ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পার করলেও অনেক এলাকার রাস্তা গ্রামীণ সড়কের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। পৌর সভার কয়েকটি এলাকায় গত দেড় বছর আগে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হলে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু কিছু অংশের কাজ শেষ করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর দীর্ঘদিনেও আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বাগেরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিন্টু শেখসহ অন্যরা বলেন, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু দেড় বছর ধরে রাস্তা এমন অবস্থায় পড়ে আছে যে, হাঁটাও দায়। বর্ষায় কাদা, আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় শিশুদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। একই এলাকার গৃহবধূ মাহিমা বেগম বলেন, সকালে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে ভয় লাগে। বড়বড় গর্তে অনেক সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যেতেও রাস্তায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্কুল শিক্ষার্থী সুস্মিতা দাস বলেন, স্কুলে যাওয়ার সময় অনেকবার পড়ে গেছি। জুতা-কাপড় সব নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে রাস্তা চিনতেই পারি না। শহরের ভেন্ডারের কলনী এলাকার মাহমুদুল হক জানান, রাস্তা নির্মাণ শুরু হওয়ায় অনেক আশা জেগেছিল। সেই আসার গুড়ে বালি পড়েছে। ৯ নং ওয়ার্ডের মোল্লার পুকুর এলাকার সোহেলী বেগম বলেন এই এলাকায় কোন মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোন বাহন চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। রাস্তার নির্মাণ শুরু হওয়ায় সবাই ভেবেছিল দুর্ভোগ বুঝি এবার কমবে। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় যা করা হয়েছিল তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এসব দেখার কেউ নেই।
মূলত দীর্ঘ বছর ধরে বিতর্কিত বাগেরহাট পৌরসভা বর্তমানে অভিভাবকহীন হয়ে রয়েছে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে একটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাঁচটি প্যাকেজে এসব রাস্তার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে অর্থ বরাদ্দ, ঠিকাদারি জটিলতা ও প্রশাসনিক কারণে কাজগুলো থমকে রয়েছে। এ বিষয়ে বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক ডা. ফখরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কিছু রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। যেসব কাজ বন্ধ আছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে পুনরায় শুরু করা হবে। নাগরিকদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
প্রচার পেয়েছে চলমানকাজে দফায় দফায় চাঁদাবাজী হওয়ায় কাজে জটিলতা বাড়ছে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় বাগেরহাট পৌরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে যে অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।