image
ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পাটুল মাঠে দিগন্তজোড়া সরিষা ফুলের শোভা -সংবাদ

ভাঙ্গুড়ার সরিষা ফুলে কৃষকের চোখে নতুন আশার আলো

সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬
প্রতিনিধি, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)

শীতের শুরুতেই প্রকৃতি বদলে ফেলেছে তার রূপ। গ্রামবাংলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সরিষা ফুলের চোখজুড়ানো হলুদ আভা। দিগন্তজোড়া এই হলুদ সমারোহ শীতের আগমনী বার্তা জানান দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষের মনে জাগিয়ে তুলছে প্রশান্তি ও আশাবাদের অনুভূতি। সরিষা ফুলের সৌন্দর্য বরাবরই কবি-সাহিত্যিকদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছে। শীতের হালকা হাওয়া, হলুদ সরিষা আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এই দৃশ্য উপভোগ করতে শীত মৌসুম এলেই শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন গ্রামে।

এমন দৃশ্য এখন চোখে পড়ছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে। দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত জমিতে সদ্য ফোটা সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে এলাকা। এই ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চলতি রবি মৌসুমে সরিষা চাষে ভালো লাভের আশায় বিভোর উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে বারি-৯, বারি-১৪ ও বারি-১৭সহ বিভিন্ন জাতের সরিষা প্রায় ৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আবাদ আরও বাড়তে পারে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব এলাকাতেই কমবেশি সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষকরা উন্নত জাতের পাশাপাশি দেশীয় রাই, চৈতা ও মাঘি জাতের বীজও বপন করেছেন। তবে প্রচলিত দেশি জাতের তুলনায় বারি-৯, বারি-১৪ ও বারি-১৫ জাতের ফলন বেশি হওয়ায় এসব জাতের প্রতিই কৃষকদের আগ্রহ বেশি।

খানমরিচ ইউনিয়নের পাটুল গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, এই এলাকায় সরিষার ফলন ভালো হয়। সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে উপজেলা শহর থেকেও অনেক মানুষ আসেন। আমি এ বছর ছয় বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছি। গাছের অবস্থা ভালো, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।

একই উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের কৃষক নয়ন শেখ বলেন, ধান কাটার পর সরিষা চাষ করলে খরচ কম হয়, আর লাভও ভালো পাওয়া যায়। এবার রোগবালাই কম, তাই ফলন নিয়ে আমরা আশাবাদী। সরিষা ফুল দেখতে আসা ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার প্রকৃতিপ্রেমী সুজন আহমেদ বলেন, শহরের কোলাহল ছেড়ে এমন হলুদ মাঠে দাঁড়ালে মনটাই বদলে যায়। সরিষা ফুল আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। কলেজছাত্রী লামিয়া আক্তার বলেন, প্রতি বছর শীত এলেই সরিষা ফুল দেখতে গ্রামে আসি। এই দৃশ্য দেখলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান জানান, শীত মৌসুমে সরিষা ফুল ফুটলে শহরের মানুষ প্রকৃতি দেখতে গ্রামে আসেন এটি আনন্দের বিষয়। এতে তারা যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পান। এ বছর উপজেলায় গত বছরের তুলনায় সরিষার আবাদ বেড়েছে। কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ঝিনাইদহে নারীকে ধর্ষণ, গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

» সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

সম্প্রতি