সিরাজগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের সৎকারে বাঁধা দেওয়ায় মরদেহ নিয়ে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ করেছে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিড়া মহল্লার মৃত গণেশ বনিকের স্ত্রী মিনা বনিক অসুস্থ্য হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ সকাল ১০টায় জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এটি এম আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত মিনা বনিকের ছেলে সন্তোষ বনিক বলেন, আমার মা গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে মারা যান। সোমবার সকাল ৮টার সময় আমরা তার সৎকারে জন্য ঘোষগাতী মহাশ্মাশানে নিয়ে আসলে শ্মাশানের চাবির জন্য বাবলু ভৌমিক নিকট গেলে তিনি চাবি না দিয়ে সৎকার করার কাজে বাঁধা দেন এবং তিনি বলেন উল্লাপাড়া মহাশ্মাশান যেখানে রয়েছে সেখানে নিয়ে সৎকার করেন। পরে আমরা আমাদের এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়ে উপজেলা চত্বরে এসেছি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসের মরদেহটি ঐ শ্মাশানে নিয়ে এসে সৎকার করি।
ঝিকিরা মহল্লার রাজেশ কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মহাশ্মাশানটি উল্লাপাড়া মহাশ্মাশান নামে ছিলো। সেখানে আমাদের উপজেলার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতো। কিন্তু গত ৫ বছর আগে এই মহাশ্মাশানটি ঘোষগাতী মহাশ্মাশান হিসেবে নাম পরিবর্তন করে একটি কমিটি গঠন করে। সেখানে সরকারি বিভিন্ন অনুদানে টাকা আসলেও সেই টাকাগুলো আত্মার করেন বাবলু ভৌমিক সহ ঐ কমিটির লোকজন।
তিনি আরো বলেন, উল্লাপাড়া মহাশ্মান নামকরণ করে উপজেলার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতে দিতে হবে। ম্যানেজিং কমিটিতে প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে একজন করে লোক নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বাবলু ভৌমিক বলেন, ঘোষগাতি মহাশ্মাশানের দেখবাল করার জন্য কোন লোকজন নেই। ঘোষগাতি শ্মাশানের চাবি আমার নিকট থাকে। সকালে মৃত মিনা বনিকের ছেলেরা উল্লাপাড়া পৌর শ্মাশানের নাম উল্লেখ করে মাইকিং দিয়েছে। যেহেতু উল্লাপাড়া পৌর শ্মাশান নামে কোন শ্মাশান নেই। সেই কারণে তাদের চাবিটি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, তোমরা যে শ্মাশানের নামে মাইকিং দিয়েছো সেখানে নিয়ে সৎকার করো। একথা শুনে মৃদ মিনা বনিকের ছেলেরা মরদেহটি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে ইউএনওর প্রতিনিধি রাকিব ফোন দিলে আমি তাদেরকে শ্মশানের চাবিটি দিয়ে দেয়। বর্তমানে ঘোষগাতি মহাশ্মশানে তার সৎকার চলছে।