সরিষা ফুলের হলুদ হলুদে অপরূপ সাজে সেজেছে মাঠের পর মাঠ জুড়ে। যেখানে রয়েছে চোখ জুড়ানো অপার সৌন্দর্যের সমারোহ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল ও নদীর ধারে সরিষার আবাদ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
চাষীরা বলছেন, চরাঞ্চলসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দু’টোই কম হওয়ায় চাষীদের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। জানা গেছে, মৌসুমে জেলার ৫টি উপজেলায় আবাদ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে এবং ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে ৪৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর, নাচোলে ৭ হাজার হেক্টর, শিবগঞ্জে ৫ হাজার ৯১০ হেক্টর, গোমস্তাপুরে ৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর ও ভোলাহাটে ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। চরাঞ্চল বেষ্টিত ইসলামপুর ও সুন্দরপুরের কাজিপাড়া এবং খড়িবোনা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হলুদ আর হলুদ ও ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সরিষা ক্ষেত। কোন কোন মাঠে সরিষার দানা বাঁধছে এবং আবার কোথাও ফুল ফুটতে শুরু করেছে। খড়িবোনা এলাকার জমির মালিক আব্দুল খালেক বলেন, এবারও ৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। বিঘা প্রতি সরিষা চাষ করতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৫/৬ হাজার টাকা। সরিষা আবাদে এবার সারের পরিমাণ বেশী দিতে হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন ভাল হওয়ার আশা করছেন। আরেক চাষী জালাল উদ্দিন জানান, ফলন পাওয়া যায় বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মণ। অগ্রহায়নের শুরু থেকে সরিষার চাষ শুরু করা হয়েছে এবং মাঘ মাসের শেষ ভাগে মাড়াই শুরু হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, সরিষা চাষে কৃষকরা যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তা ইতিবাচক। বিশেষ করে চাষাবাদে পানি তেমন লাগে না। জেলায় টরি ৭, বারি ১৪ ও ১৭ জাত এবং বিনা ১১ জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে। টরি জাতের সরিষা ৭০/৭৫ দিন, বাকি জাতের ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে ফলন হয়ে থাকে। এছাড়া সরিষা চাষে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।